রোজা মাসের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ভোজ্যতেল ও কিছু শস্যের আমদানি বাড়বে বলে আমদানিকারক সংস্থাগুলো জানিয়েছে। আগামী ১০‑১৫ দিনের মধ্যে রোজা‑সামগ্রীতে অতিরিক্ত শিপমেন্ট প্রত্যাশিত, যা বাজারে সরবরাহের ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে। তবে রোজার আগে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, ঐ দিন চলাচল সীমিত থাকবে এবং নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে লজিস্টিক্সে বাধা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে আমদানি পণ্যকে কারখানায় নিয়ে প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারে পৌঁছাতে যদি কোনো ধাপ ব্যাহত হয়, তবে সাময়িক ঘাটতির ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল উল্লেখ করেছেন, রোজা‑সামগ্রীর সরবরাহে কোনো বড় ঘাটতি দেখা যাবে না, তবে আমদানি পণ্যকে সময়মতো কারখানায় নিয়ে প্রক্রিয়াকরণ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, আমদানি‑প্রক্রিয়াকরণ চেইন ঠিকভাবে চললে রোজা‑মাসে বাজারে তেলের ঘাটতি না থাকে।
সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারকে স্থানীয় উৎপাদন, আমদানি ও মজুতের পরিমাণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। চাহিদা ও সরবরাহের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে নীতি নির্ধারকদের সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সিপিডি‑এর ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের মন্তব্যও উঠে এসেছে, যেখানে তিনি স্থানীয় উৎপাদন ও আমদানি ভিত্তিক সমন্বয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন।
ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী রোজা মাসে ভোজ্যতেলের মোট চাহিদা প্রায় তিন লক্ষ টন। গত দুই ও অর্ধ মাসে প্রধান দুই ভোজ্যতেল—সয়াবিন তেল ও পাম তেল—মিলিয়ে মোট ৪,৩৮,০০০ টন আমদানি করা হয়েছে। একই সময়ে পূর্ববর্তী রোজা মৌসুমের তুলনায় মোট আমদানি ৫৬,০০০ টন কমেছে। তবে উল্লেখযোগ্য যে, অপরিশোধিত তেল আমদানির পাশাপাশি দেশীয় তেল উৎপাদনের জন্য সয়াবিন বীজের আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর তুলনায় সয়াবিন বীজের আমদানি ১,৬২,০০০ টন বাড়ে, যা অতিরিক্ত ২৫‑৩০ হাজার টন সয়াবিন তেল উৎপাদনে সহায়তা করবে।
শীর্ষ ভোজ্যতেল আমদানিকারক টিকে গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফা হায়দার জানান, রোজা মাসে তেলের চাহিদা এখনও তুলনামূলকভাবে কম। যদিও সাম্প্রতিক আমদানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবু রোজা আগে জাহাজে তেল ভরে বন্দরে পৌঁছাবে, ফলে বড় কোনো ঘাটতি দেখা যাবে না। তেল সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে শিপমেন্টের সময়সূচি ও লোডিং প্রক্রিয়ার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
ডাল বিভাগের ক্ষেত্রে আমদানির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটেছে। গত দুই ও অর্ধ মাসে মটর ডাল (মসুর) মোট ১,১৩,০০০ টন আমদানি করা হয়েছে, যা একই সময়ে গত বছর থেকে ১,৬৮,০০০ টন কম। ডালের সরবরাহ কমে যাওয়ায় রোজা‑মাসে বাজারে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও স্থানীয় উৎপাদন ও মজুতের পরিমাণ কিছুটা সান্ত্বনা দেবে।
সামগ্রিকভাবে রোজা মৌসুমে ভোজ্যতেল ও ডালের সরবরাহে সাময়িক চাপের সম্ভাবনা থাকলেও, আমদানি পরিকল্পনা ও লজিস্টিক্সের সঠিক সমন্বয় দিয়ে বড় ঘাটতি এড়ানো সম্ভব। সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত পর্যবেক্ষণ, সময়মতো শিপমেন্ট এবং কারখানায় প্রক্রিয়াকরণ নিশ্চিত করা হলে রোজা‑মাসে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। ভবিষ্যতে রোজা‑সামগ্রীর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমদানি ও উৎপাদনের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নীতি নির্ধারকদের নিয়মিত ডেটা বিশ্লেষণ ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন।



