অস্ট্রেলিয়ার বিকল্প রক ব্যান্ড দ্য টেম্পার ট্র্যাপ ২০ জানুয়ারি রাত জিমি কিমেল লাইভে উপস্থিত হয়ে নতুন গীত ‘গিভিং আপ এয়ার’ উপস্থাপন করেছে। এই পারফরম্যান্সটি ব্যান্ডের দীর্ঘ সময়ের পর পুনরায় সক্রিয় হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
ব্যান্ডটি ২০০০-এর শেষের দিকে ‘সুইট ডিসপোজিশন’ গানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রবেশ করে, যা (500) ডেজ অফ সামার ছবিতে ব্যবহার হওয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। গায়কের ডৌজি ম্যান্ডাগির স্বতন্ত্র ফালসেটো স্বর এবং গিটারের মেলোডিক লাইন শোনার সময় শৈল্পিক উচ্ছ্বাসের ছাপ রেখে যায়।
দ্য টেম্পার ট্র্যাপ অস্ট্রেলিয়ান রেকর্ডিং শিল্প সংস্থা ARIA থেকে একাধিক পুরস্কার পেয়েছে এবং ২০১২ ও ২০১৬ সালে ধারাবাহিকভাবে অ্যালবাম চার্টের শীর্ষে বসেছিল। এই সময়ে ব্যান্ডের সাউন্ডে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তারা ভক্তদের হৃদয় জয় করেছে।
২০১৩ সালে দীর্ঘদিনের গিটারিস্ট লোরেঞ্জো সিলিটোর প্রস্থানের পরেও ব্যান্ডের সঙ্গীতময় যাত্রা অব্যাহত থাকে। একই বছর তারা অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লীগ (AFL) গ্র্যান্ড ফাইনালের হাফটাইম শোতে পারফরম্যান্স দিয়ে বৃহৎ স্টেডিয়াম দর্শকদের সামনে উপস্থিত হয়।
ব্যান্ডের সক্রিয়তা ২০২২-২০২৩ সালে কিছুটা কমে যাওয়ার পর, ২০২৪ সালে তারা অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে হেডলাইন শো পরিচালনা করে পুনরায় মনোযোগ আকর্ষণ করে। এরপর উত্তর আমেরিকায় একটি সিরিজ কনসার্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের উপস্থিতি দৃঢ় করে।
জিমি কিমেল লাইভে তাদের পারফরম্যান্সে ‘গিভিং আপ এয়ার’ গানের প্রথম লাইভ রেন্ডিশন দেখা যায়। চারজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ব্যান্ডটি একটি দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যের সঙ্গে মঞ্চে হাজির হয়, যেখানে একটি গাড়ি বাঁকানো রাস্তায় গতি বাড়িয়ে চলা চিত্র দেখা যায়, যা সম্ভবত তাদের ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনের রূপক হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।
‘গিভিং আপ এয়ার’ শিরোনামটি যদিও হালকা শোনায়, তবে গানের সুর ও লিরিক্সে গভীরতা ও ভারী অনুভূতি প্রকাশ পায়। গায়ক ম্যান্ডাগি গানের মধ্যে শোক, হতাশা এবং আশার সন্ধানের বিষয়গুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন, যেমন “গিভিং আপ এয়ার, লেইন ইট বেয়ার, হোপিং মাই ড্রিমস উইল রি-অ্যাপিয়ার” ইত্যাদি লাইনগুলোতে দেখা যায়।
এই গানের সাউন্ড প্রোডাকশন গ্র্যামি-নোমিনেটেড স্টাইল জ ফুয়েগোর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে, যিনি ট্রোয়ি সিভান, চার্লি এক্সসিএইচ এবং খালিদের মতো শিল্পীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা রাখেন। ফুয়েগোর প্রোডাকশন গানের আধুনিক ইলেকট্রনিক উপাদানকে ব্যান্ডের রক সাউন্ডের সঙ্গে মিশিয়ে একটি সমসাময়িক টেক্সচার তৈরি করেছে।
‘গিভিং আপ এয়ার’ ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি ‘লাকি ডাইমস’ গানের পরের প্রথম রিলিজ, যা ব্যান্ডের নয় বছর বিরতির পরের পুনরাগমন চিহ্নিত করে। ‘লাকি ডাইমস’ ছিল ব্যান্ডের ফিরে আসার সূচনাকারী ট্র্যাক, আর ‘গিভিং আপ এয়ার’ তার পরের ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ম্যান্ডাগি গানের পেছনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, এটি একটি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং প্রিয়জনের হঠাৎ ক্ষতির বেদনাকে প্রকাশ করে। তিনি উল্লেখ করেন যে শোকের প্রাথমিক ধাক্কা থেকে ক্রোধ এবং শেষ পর্যন্ত আশা খোঁজার প্রক্রিয়া গানের লিরিক্সে প্রতিফলিত হয়েছে। মূলত এই গানটি তার একক প্রকল্প ‘ব্লাডমুন’ এর জন্য রচিত হয়েছিল, তবে ব্যান্ডের সদস্যদের সঙ্গে কাজ করার সময় এটি দলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ রূপ পায়।
দ্য টেম্পার ট্র্যাপের সাম্প্রতিক ট্যুরে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শহরগুলোতে হেডলাইন শো এবং পরবর্তীতে উত্তর আমেরিকায় একাধিক কনসার্ট অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই শোগুলোতে নতুন গানের পাশাপাশি ব্যান্ডের পুরোনো হিটগুলোও পরিবেশিত হয়, যা ভক্তদের জন্য একসাথে পুরনো ও নতুনের মেলবন্ধন তৈরি করে।
সারসংক্ষেপে, জিমি কিমেল লাইভে দ্য টেম্পার ট্র্যাপের ‘গিভিং আপ এয়ার’ পারফরম্যান্স ব্যান্ডের সৃজনশীল পুনর্জাগরণ এবং শোক থেকে আশার পথে অগ্রগতির একটি স্পষ্ট চিত্র উপস্থাপন করে। ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গীত যাত্রা কীভাবে বিকশিত হবে, তা নিয়ে ভক্তদের প্রত্যাশা বাড়ছে।



