যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ড্যাভোসের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও সম্পদ সংরক্ষণের জন্য একটি নতুন কাঠামো ঘোষণার মাধ্যমে ডেনমার্কের প্রতি হুমকি প্রত্যাহার করেন। তিনি বলছেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ পূরণ করে এবং চিরকাল স্থায়ী হবে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে পূর্বে গ্রিনল্যান্ডকে জোরপূর্বক অধিগ্রহণের ইঙ্গিত ও ডেনমার্কের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ফোরামে তিনি উল্লেখ করেন, শুল্কের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশের হুমকি এখন বাতিল করা হবে এবং ডেনমার্কসহ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির সামরিক সমর্থনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
চুক্তিটি ন্যাটো সেক্রেটারি-জেনারেল মার্ক রুটের সঙ্গে আলোচনা করে গৃহীত হয়েছে বলে ট্রাম্প জানান। রুটের সঙ্গে আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব বিষয়টি উঠে না আসার কথা তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ন্যাটো ভবিষ্যতেও রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিপক্ষের থেকে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করবে।
নাটোর প্রধান কর্মকর্তাও এ বিষয়ে মন্তব্য করে জানান, গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া ও চীনের অর্থনৈতিক বা সামরিক প্রভাব রোধে এখনও অনেক কাজ বাকি আছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে নিরাপত্তা ও সম্পদ সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত আলোচনার প্রয়োজন হবে।
ট্রাম্পের শুল্ক প্রত্যাহার ও শক্তি হুমকি ত্যাগের পর বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে স্বস্তির বাতাস দেখা যায়। ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলো উর্ধ্বমুখী গতি পায়, যা পূর্বের উত্তেজনা থেকে সৃষ্ট অস্থিরতা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই কাঠামো গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ অবস্থান ও আর্কটিকের ভূ-রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর আর্কটিকের প্রতি আগ্রহের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে গড়ে উঠবে, তা পরবর্তী আলোচনার মূল বিষয় হবে।
ট্রাম্পের ঘোষণায় তিনি জোর দেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবকিছুই নিশ্চিত করে এবং গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা, সম্পদ ও অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে সকল পক্ষকে শক্তিশালী অবস্থানে রাখে। তবে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়, কারণ রুটের সঙ্গে আলোচনায় তা উল্লেখ করা হয়নি।
নাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে রাশিয়া ও চীনের আর্কটিকের ওপর প্রভাব রোধে যৌথ কৌশল নির্ধারণের জন্য আরও আলোচনা চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা কীভাবে গড়ে উঠবে, তা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হবে।
সংক্ষেপে, ট্রাম্পের নতুন কাঠামো গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও সম্পদ সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে দৃঢ় করে, একইসাথে ডেনমার্কের প্রতি হুমকি ও শুল্কের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্তেজনা কমিয়ে দেয়। ভবিষ্যতে এই চুক্তি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং আর্কটিকের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা পরবর্তী আলোচনার বিষয় হবে।



