নবম জাতীয় বেতন কমিশন গতকাল সরকারী কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো উপস্থাপন করেছে, যেখানে বেতন বৃদ্ধি ১০০% থেকে ১৪২% পর্যন্ত হতে পারে এবং অন্যান্য সুবিধাতেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি থাকবে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় এক লাখ কোটি টাকার বেশি হবে।
২১ সদস্যের এই কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন প্রাক্তন অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান, যিনি সন্ধ্যায় জামুনা নদীর তীরে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের কাছে রিপোর্ট জমা দেন। কমিশন মোট ২০টি বেতন স্কেল প্রস্তাব করেছে; সর্বনিম্ন বেতন ৮,২৫০ টাকার পরিবর্তে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮,০০০ টাকার পরিবর্তে ১,৬০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে জাকির উল্লেখ করেন। বর্তমানে সরকার ১৪ লক্ষ কর্মচারী ও নয় লক্ষ অবসরপ্রাপ্তের জন্য বার্ষিক এক লাখ একত্রিশ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে।
বেতন কাঠামো পুনর্গঠন করার পেছনের যুক্তি হিসেবে জাকির বলেন, বিশ্ব ও দেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে সাম্প্রতিক দশকে বিশেষ করে মৌলিক পণ্যের দামের তীব্র বৃদ্ধির ফলে সরকারী কর্মচারীদের জীবনের ব্যয় সামলাতে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই সময়মতো ও উপযুক্ত বেতন কাঠামো না থাকলে কর্মচারীদের আর্থিক চাপ বাড়বে।
এই বেতন স্কেল ২০১৫ সালে প্রয়োগ করা অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলের পরবর্তী সংস্করণ। কমিশন মোট ১৮৪টি বৈঠক পরিচালনা করে এবং ২,৫৫২ জন ব্যক্তির মতামত ও প্রস্তাব সংগ্রহের পর চূড়ান্ত সুপারিশ উপস্থাপন করে।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহুদ্দিন আহমেদ জানান, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সুপারিশগুলো শীঘ্রই কার্যকর করা হবে, তবে নতুন বেতন স্কেলটি অস্থায়ী সরকারের মেয়াদে কার্যকর হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, বাজেটে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় বিধান রাখা হয়েছে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধি সরকারী কর্মচারীদের জন্য আর্থিক স্বস্তি এনে দিতে পারে, তবে অতিরিক্ত ব্যয় বাজেটের ওপর চাপ বাড়াবে। সরকার কীভাবে এই ব্যয় সামলাবে এবং নতুন বেতন কাঠামো কখন কার্যকর হবে, তা আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।



