নির্বাচন কমিশন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের জন্য দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আপিল শোনার পর ২৪ জন প্রার্থীর নাম তালিকাভুক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্ত জানুয়ারি ১০ থেকে ১৮ পর্যন্ত চলা আপিল শোনার শেষে নেওয়া হয়।
শোনার সময়কালে মোট ২৪টি আপিল বিবেচনা করা হয়, যেখানে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। শোনার শেষ দিনে এই আপিলগুলো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়।
প্রাথমিকভাবে ১৫টি প্রার্থীর নাম রিটার্নিং অফিসার (RO) দ্বারা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে একই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে পৃথক আপিল দায়ের করা হয়। শোনার সময় কমিশন এই আপিলগুলো প্রত্যাখ্যান করে, ফলে RO-র মূল সিদ্ধান্ত বজায় থাকে।
অনুমোদিত ২৪ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-১ ইস্লামি আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মোহাম্মদ নাজরুল ইসলাম; দিনাজপুর-৫ বিএনপি প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামান; সাতক্ষীরা-৪ বিএনপি প্রার্থী মো. মোনিরুজ্জামান; ফরিদপুর-২ বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়দ; সুনামগঞ্জ-২ বিএনপি প্রার্থী তাহির রায়হান চৌধুরী; সুনামগঞ্জ-৩ স্বাধীন প্রার্থী মো. অনোয়ার হোসেন; মৌলভীবাজার-২ বিএনপি প্রার্থী মো. শাওকতুল ইসলাম; হাবিগঞ্জ-১ স্বাধীন প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ জামায়াত-ই-ইসলামি প্রার্থী মো. জুনায়েদ হাসান; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ বিএনপি প্রার্থী মুশফিকুর রহমান; ফেনি-৩ বিএনপি প্রার্থী আবদুল আওয়াল মিন্তু; নোয়াখালী-১ ইএবি প্রার্থী জাহিরুল ইসলাম; কুমিল্লা-৩ বিএনপি প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেন কাইকোবাদ; মানিকগঞ্জ-৩ বিএনপি প্রার্থী আফরোজা খানম; এবং সিলেট-৩ বিএনপি প্রার্থী এম এ মালেক।
অন্যদিকে, ১১টি প্রার্থীর নাম দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে RO দ্বারা বাতিল করা হয়। এই প্রার্থীরা পুনরায় EC-তে আপিল দায়ের করে। শোনার পর EC নৌবাহিনীর মতো নয়, নয়টি প্রার্থীর পুনঃঅনুমোদন দেয়, আর বাকি দুইজনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ রাখে।
পুনঃঅনুমোদিত নয়টি প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে রংপুর-১ জাতীয় পার্টি প্রার্থী মো. মানজুম আলী; চাপাইনাবাগানজ-২ জাতীয় পার্টি প্রার্থী মুহ. খুরশিদ আলম; নাটোর-১ খলাফত মজলিস প্রার্থী মো. আজবুল হক; যশোর-২ জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ মোশেল উদ্দিন ফারিদ; চট্টগ্রাম-৯ জামায়াত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক; চট্টগ্রাম-৩ জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন; কুড়িগ্রাম-৩ জামায়াত প্রার্থী মো. মাহবুবুল আলম; সিলেট-১ ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP) প্রার্থী; এবং এক অতিরিক্ত প্রার্থী যাঁর নাম মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
বাকি দুই প্রার্থীর আবেদন প্রত্যাখ্যানের ফলে তাদের প্রার্থীতা অবৈধ রয়ে যায়। এই সিদ্ধান্তের পর নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো এখন অবশিষ্ট প্রার্থীদের সমর্থন ও প্রচারণা চালিয়ে যাবে।
ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখের নির্বাচনে এই প্রার্থীদের উপস্থিতি পার্টি গঠনের ভারসাম্য এবং ভোটারদের পছন্দের ওপর প্রভাব ফেলবে। নির্বাচন কমিশনের এই চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে, বিশেষ করে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রশ্নের স্পষ্টতা প্রদান করে।



