বিএনপি চেয়ারপার্সন তরিক রহমান আজ বিকেলে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বীরাইনপুরে তার শাশুড়ির বাড়ি থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। তিনি হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহ পারান মাজারে নামাজের পর সিলেটের ভোটারদের সামনে পার্টির প্রতীক শস্যের গাঁথা তুলে ভোট আহ্বান করেন।
প্রায় ২২ বছর পর তরিক ও তার স্ত্রী ড. জুবাইদা রহমান দুপুর ১২ঃ৪০ টায় বাড়িতে পৌঁছান, যেখানে স্থানীয় মানুষজনের বিশাল ভিড় স্বাগত জানায়। উপস্থিত ভিড়ের সামনে তিনি বিএনপির নীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরেন, বিশেষ করে দরিদ্র পরিবার ও কৃষকদের জন্য নতুন পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ডের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
তরিকের মতে, সিলেটের বহু যুবক বিদেশে কাজ করতে যান, তাই দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তাদের জন্য দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও ভাল বেতনের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। তিনি অতীতের সঞ্চালিত ‘নাল খনন’ প্রকল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার ইঙ্গিত দেন, যা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুরু হয়েছিল এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
গত ১৬ বছর ধরে শাসনকালে, তরিকের মন্তব্যে, স্বৈরশাসক শাসন মানুষকে মত প্রকাশ ও ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে তাদের অধিকার পুনরুদ্ধার করা হবে এবং বিএনপি সেই পরিবর্তনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
প্রচারের সময় তরিক জুবাইদাকে ‘আপনার মেয়ে’ বলে সম্বোধন করে, নিজেকে ‘আপনার ছেলে’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং সিলেটের ভোটারদের কাছ থেকে পার্টির জয় নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি চেয়ে নেন। এই ব্যক্তিগত আবেদন ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের সঞ্চার করে।
অন্যদিকে, শাসনরত আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো তরিকের বক্তব্যকে রাজনৈতিক র্যালি হিসেবে বিবেচনা করে সমালোচনা করে। তারা উল্লেখ করে, নির্বাচনী সময়ে এমন প্রচারাভিযান ভোটারকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা এবং বাস্তব নীতি বাস্তবায়নের চেয়ে ভোটের জন্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া বেশি।
বিএনপির বিরোধীরা তরিকের ‘ক্যানাল খনন’ পরিকল্পনাকে অতীতের অবহেলিত প্রকল্পের পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টা বলে দেখেন, যা বাস্তবায়নে আর্থিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। তারা জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের পরই প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে না।
তরিকের এই প্রচারাভিযান দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সিলেটের ভোটারগণ, যাদের মধ্যে বহু পরিবার বিদেশে কর্মসংস্থান খুঁজে, তাদের মতামত ও ভোটের দিকনির্দেশনা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি তরিকের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হয়, তবে গ্রামীণ ও কৃষক ভোটারদের মধ্যে বিএনপির সমর্থন বাড়তে পারে। তবে একই সঙ্গে, শাসনরত সরকারের নীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের তুলনায় ভোটাররা কোন দিককে বেশি গুরুত্ব দেবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
প্রচারের শেষে তরিক ও জুবাইদা সমর্থকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং ভোটারদের কাছে ভোটের দিন সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
এই প্রচারাভিযান সিলেটের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সমানভাবে প্রচার চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তরিকের দল আগামী সপ্তাহে অন্যান্য নির্বাচনী ক্ষেত্রেও সমান রকমের প্রচার চালাবে বলে জানানো হয়েছে।
সিলেটের ভোটারদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র, কেউ তরিকের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানায়, আবার কেউ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে স্পষ্ট যে, এই প্রচারাভিযান দেশের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে তীব্র করে তুলবে এবং আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।



