বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার রাত ১টার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা জেলার বিরাইমপুরে শ্বশুরবাড়িতে উপস্থিত হয়ে ভোটের আবেদন জানান। তিনি উপস্থিতির সময় উল্লেখ করেন, ধানের শীষের ফলাফল ১২ তারিখে নিশ্চিত করতে চান এবং এ লক্ষ্যে স্থানীয় জনগণের সমর্থন কামনা করেন।
সকাল ৮টায় তিনি হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহ পরাণ (র.)-এর মাজারে জিয়ারত করে ধর্মীয় দায়িত্ব সম্পন্ন করেন। মাজার পরিদর্শনের পরই তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে হাজারো মানুষের সামনে তার রাজনৈতিক লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন করেন।
তারেক রহমানের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “ডা. জুবাইদা আপনার সন্তান, আমিও আপনার সন্তান” এবং বলেন, “ধানের শীষ বিজয়ী হলে আমরা পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করব, যা সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি সহায়তা আনবে”। তিনি এ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের জন্য সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সূচিত ‘খাল খনন’ কর্মসূচি পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেন।
কৃষি উন্নয়নের পাশাপাশি তিনি যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি জেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ সেন্টার গড়ে তোলা হবে, যাতে আমাদের যুবকরা দক্ষ হয়ে বিদেশে কর্মসংস্থান পেতে পারে এবং দেশের রেমিটেন্সে অবদান রাখতে পারে”। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে, তিনি আশ্বাস দেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান অতীতের রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষকে বাকস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং ভোটাধিকার থেকে দূরে রাখা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই নির্বাচনই সেই অধিকারগুলো পুনরুদ্ধার করার সুযোগ”।
তারেকের এই সফরটি স্থানীয় মুরুব্বি ও এলাকাবাসীর দোয়া চেয়ে শেষ হয়। তিনি উপস্থিতদের আশীর্বাদ গ্রহণের পর, নিজের পরিবারসহ, অর্থাৎ স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানসহ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (বিএনপি চেয়ারপার্সন) ও অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।
বৈধভাবে তারেককে স্বাগত জানাতে আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় কর্মীরা ফুল দিয়ে তাকে বরণ করেন। দোয়া শেষে তিনি এবং তার পরিবার বাড়িতে রাতের খাবার গ্রহণ করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই সফরটি পার্টির নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে শ্বশুরবাড়ি ও মাজার পরিদর্শনের মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক সংযোগ জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কৃষি, যুব উন্নয়ন ও রেমিটেন্সের ওপর গুরুত্বারোপ করে ভোটারদের কাছে তার নীতি ভিত্তিক প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের ভোটের আবেদনকে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে ভোটারদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে তারেকের দাবি অনুযায়ী, এই উদ্যোগগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে অবদান রাখবে।
পরবর্তী ধাপে, তারেক রহমানের দল স্থানীয় স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করে ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়া নাগরিকদের সঙ্গে সংযোগ বাড়াবে এবং নির্বাচনের আগে আরও প্রচারমূলক কার্যক্রম চালাবে। এ সবকিছুই ১২ তারিখে নির্ধারিত ধানের শীষের ফলাফল ও নির্বাচনী ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত হবে।



