নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান গ্যাব্রিয়েল উইলিয়ামসন, দক্ষিণ আফ্রিকায় এসএ টোয়েন্টি খেলায় অংশ নেওয়ার পর, এক রাতের মধ্যে ঢাকা পৌঁছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জন্য এসটিতে ডেকা দিলেন। তার দল থেকে প্রারম্ভিক বাদ পড়ার পর, ডারবান থেকে তিনটি ট্র্যানজিট এবং প্রায় ২৪ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা শেষে তিনি রাত্রি বেলায় মাঠে নামেন।
উইলিয়ামসনকে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের দলে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের পেছনে কোচ হান্নান সরকারের দৃঢ় ইচ্ছা কাজ করেছে। দলটি তার অভিজ্ঞতা ও শক্তিশালী ব্যাটিংকে দরকারি বলে বিবেচনা করে, বিশেষ করে মাঝারি স্কোরের পরিসরে দ্রুত রান বাড়ানোর ক্ষমতা। কোচ হান্নান উল্লেখ করেন, “উইলিয়ামসন সকাল ৯টা-সাড়ে ৯টার দিকে হোটেলে পৌঁছেছেন, টিম মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন এবং তারপর বিশ্রাম নিয়েছেন। এটাই তার পেশাদারিত্বের পরিচয়।”
ঢাকায় পৌঁছানোর পর, উইলিয়ামসন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে তৎক্ষণাৎ দলে প্রবেশ করেন। তিনি স্থানীয় বোলার জিমি নিশামের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গঠন করেন, যা দলের রানের গতি বাড়াতে সহায়ক হয়। উভয়ের সমন্বয় শেষ পর্যন্ত ১২ রানে জয়ী হয়ে রাজশাহীর ফাইনালে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ম্যাচের পর কোচ হান্নান আবারও উইলিয়ামসনের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের ক্যারেক্টার সবসময়ই সফট ও স্মার্ট, কিন্তু উইলিয়ামসন আজকের দিনেও তার সময়মতো উপস্থিতি ও প্রস্তুতি দিয়ে দলকে অনুপ্রাণিত করেছেন।” এই মন্তব্যগুলো উইলিয়ামসনের ক্যারিয়ারের দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে তিনি টেস্ট ক্রিকেটে কিংবদন্তি এবং ওয়ানডেতেও বড় নাম।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জন্য উইলিয়ামসনকে আনতে কিছু সংশয়ও দেখা গিয়েছিল। তার উপস্থিতি এক ম্যাচে শেষ হয়ে যেতে পারে বলে কিছু ভয় ছিল, তবু কোচের মতে, “মিরপুরে যখন খেলাটি শুরু হয়, আমরা দেখেছি যে দেড়শো রানের আশেপাশে স্কোর ভালো হয়। এমন সময়ে উইলিয়ামসনের মতো একজন ব্যাটসম্যান ইনিংসকে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয়।” কোচের এই যুক্তি দলকে শক্তিশালী ব্যাটিং কম্বিনেশন গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হয়।
উইলিয়ামসনের এই স্বল্প সময়ের উপস্থিতি রাজশাহীর এসএ টোয়েন্টি ক্যাম্পেইনে নতুন রঙ যোগ করেছে। তার অভিজ্ঞতা ও দ্রুত রান স্কোরিং ক্ষমতা দলকে মাঝারি স্কোরের পরিসরে স্থিতিশীলতা প্রদান করেছে, যা ভবিষ্যৎ ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পরবর্তী ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে কোচ হান্নান নিশ্চিত করেছেন যে উইলিয়ামসনের উপস্থিতি দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
সারসংক্ষেপে, গ্যাব্রিয়েল উইলিয়ামসনের দীর্ঘ ভ্রমণ, দ্রুত মাঠে নামা এবং স্থানীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে গড়া জুটি রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে ফাইনালে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। কোচের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তার পেশাদারিত্ব ও ব্যাটিং দক্ষতা দলকে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে, যা ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে দলের পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করবে।



