দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে বুধবার ভারত থেকে চালের প্রথম কনসাইনমেন্ট দেশের বাজারে পৌঁছেছে, যা এক মাস ২২ দিন পর পুনরায় চাল আমদানি সূচনার সংকেত দেয়। এই পদক্ষেপটি সরকারী মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হিলি শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এম. আর. বাধন জানান, বুধবার দুপুরে মোট ২৪৩ টন মোটা‑মাঝারি চাল বাংলাদেশে পৌঁছেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই চালের গমনোযোগ দ্রুত সম্পন্ন হয়ে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে আমদানিকর্তাদের কাছে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
চাল আমদানি ৩০ নভেম্বর থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। সরকার বাজারে চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে দুই লাখ টন চালের আমদানির অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই অনুমোদনটি বিশেষভাবে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করে, যাতে আমদানিকর্তারা অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই চাল সরবরাহ করতে পারে।
শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া চালগুলোকে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করা হয়, যাতে বাজারে সরবরাহের ফাঁক দ্রুত পূরণ হয়। হিলি বন্দর থেকে প্রথম কনসাইনমেন্টের আগমনেই শুল্ক ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে চালটি সরাসরি বাজারে পৌঁছেছে।
এই চালের গমনোযোগের সঙ্গে সঙ্গে হিলি স্থলবন্দরের মাধ্যমে মোট ৩২ জন আমদানিকর্তাকে ১৪,০০০ টন চাল আমদানি করার অনুমতি (আইপি) প্রদান করা হয়েছে। এই অনুমতিগুলো তিন দিন আগে কৃষি অধিদপ্তরের খামারবাড়ি থেকে প্রাপ্ত হয়।
আমদানিকর্তারা জানান, ভারত থেকে চালের সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং মূল্য স্থিতিশীল থাকবে। ফলে ভোক্তারা কম দামে চাল ক্রয় করতে সক্ষম হবেন, যা গৃহস্থালির ব্যয় হ্রাসে সহায়তা করবে।
ভারতের রপ্তানিকারক বাপি মালিকের মতে, মোট দুই লাখ টন চাল বাংলাদেশে রপ্তানি করা হবে। আজকের প্রথম ধাপের পর পরবর্তী ধাপগুলোও ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাবে, যা দেশের চালের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই আমদানি পরিকল্পনা চালের অভাবজনিত মূল্যবৃদ্ধি রোধে সহায়ক হবে। সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হলে, বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়েরই মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অতিরিক্ত মুনাফা বা ঘাটতি কমে যাবে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে চালের উপর নির্ভরতা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা দেশের মুদ্রা ও বাণিজ্য ব্যালান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সরকারকে আমদানি নীতি পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।
আসন্ন সপ্তাহগুলোতে হিলি বন্দর থেকে ধারাবাহিক কনসাইনমেন্টের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি পর্যবেক্ষণ করে দেখবে, আমদানিকৃত চালের পরিমাণ ও বাজারের মূল্য কীভাবে সামঞ্জস্য হচ্ছে। এই তথ্য ভবিষ্যতে নীতি সমন্বয়ের ভিত্তি হবে।
সারসংক্ষেপে, হিলি স্থলবন্দরের মাধ্যমে চালের পুনরায় আমদানি দেশের চাল সরবরাহের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানি নীতির সূক্ষ্ম সমন্বয় অপরিহার্য।



