সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরি, বুধবারের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে দলের পরাজয়ের পর তৎক্ষণাৎ পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং পরের রাতেই ফেসবুক লাইভে দল ও টুর্নামেন্টের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন।
বিপিএল ২০২৬ এর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে সিলেট টাইটান্স ১২ রানে পরাজিত হয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হাতে হেরে যায়; রাজশাহী দল ফাইনালে অগ্রসর হয়। ম্যাচের পর সিলেটের উপদেষ্টা ফাহিম, ম্যাচের ফলাফল নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে মিডিয়ার সামনে কান্নার স্রোতে ডুবে যান এবং পদত্যাগের কথা জানান।
ফাহিমের পদত্যাগের ঘোষণা সত্ত্বেও, তিনি টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি সময়ে উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান করে কিছু সময়ে দলের কৌশল ও পারফরম্যান্স নিয়ে মন্তব্য করে থাকেন। তার মন্তব্যগুলো সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে এবং তার উদ্দীপনাময় উদযাপনও মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার পরাজয়ের পর, ফাহিম গাড়ি থেকে ফেসবুক লাইভে সরাসরি দর্শকদের সামনে তার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ম্যাচটি “গুরুতরভাবে দুষিত” এবং ম্যাচের ভেতরে একজন ব্যক্তির স্বার্থপর আচরণে দলকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ওই ব্যক্তি সিলেটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজের স্বার্থে কাজ করেছে এবং দলের আবেগকে “নিষ্ঠুরভাবে বেইমানি” করেছে।
ফাহিমের মতে, এই ঘটনার কোনো আর্থিক প্রয়োজন ছিল না; যদি ওই ব্যক্তি তার প্রয়োজনীয় টাকা জানাত, তা সরবরাহ করা যেত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ঘটনা তাকে গভীরভাবে আঘাত করেছে এবং তিনি বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে তদন্তের দাবি রাখছেন।
লাইভে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আজকের পরাজয় “সম্পূর্ণভাবে কম্প্রোমাইজড” এবং “ফিক্সিং” এর ফলাফল। তিনি বর্ণনা করেন, ম্যাচের ফলাফল স্বাভাবিকভাবে না হয়ে দলকে “বেইমানি” করা হয়েছে। তার কথায় স্পষ্ট যে, তিনি বিশ্বাস করেন ম্যাচের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে অভ্যন্তরীণ কোনো জালিয়াতি জড়িত ছিল।
ফাহিমের এই অভিযোগের সঙ্গে তিনি বিপিএলকে “জুয়া ব্যবসা” হিসেবে উল্লেখ করেন, যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। তার মন্তব্যগুলো সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।
সিলেট টাইটান্সের ব্যবস্থাপনা ও বিপিএল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে ফাহিমের প্রকাশিত বক্তব্যের পর দল ও টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অভ্যন্তরীণ তদন্তের সম্ভাবনা বাড়ছে।
বিপিএল ২০২৬ এর পরবর্তী রাউন্ডে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ফাইনালে প্রবেশ করবে; সিলেট টাইটান্সের পরবর্তী অংশগ্রহণের কোনো তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফাহিমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, টুর্নামেন্টের অখণ্ডতা ও ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে।
এই ঘটনার পর, সিলেটের ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করে এবং ম্যাচের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানায়। ফাহিমের বক্তব্যের সত্যতা ও প্রভাব ভবিষ্যতে কীভাবে প্রকাশ পাবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।



