বুধবার রাত ২১ জানুয়ারি, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢা-মেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে সাত তলায় একটি রোগীর মৃত্যু ঘটায়। রোগীর নাম নাজমা বেগম, যিনি ঢাকার কামরাঙ্গীচর থেকে আসা। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ইনজেকশন গ্রহণের পরই মারা যান।
মৃত্যুর পর নাজমার আত্মীয়স্বজন ডাক্তারের ওপর গিয়ে আক্রমণ করেন। আক্রমণের লক্ষ্য ছিলেন ইন্টার্ন ডাক্তার সাকিব আহমেদ, যাকে তারা মারধর করে। আত্মীয়দের এই রাগের কারণ ছিল ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে শেষ হওয়া।
আকস্মিক ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইন্টার্ন ডাক্তার ও অন্যান্য চিকিৎসকগণ জরুরি বিভাগের প্রধান গেটটি বন্ধ করে দেন। গেট বন্ধ হওয়ায় রোগী ও তাদের সঙ্গীরা হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারেনি, ফলে চিকিৎসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতি রোগী ও তাদের পরিবারকে অতিরিক্ত কষ্টে ফেলেছে।
অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য হাসপাতালের বাইরে সেনাবাহিনী, র্যাব (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) ও পুলিশ ইউনিট উপস্থিত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হয় এবং গেটের আশেপাশে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ পরিদর্শক ফারুক জানান, মৃত রোগীকে নতুন ভবনের উপরের তলা থেকে নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি সম্পর্কে জানানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জরুরি বিভাগের গেটটি এখনও বন্ধ রয়েছে এবং চিকিৎসকগণ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেবা পুনরায় চালু করতে পারছেন না।
পরবর্তীতে আত্মীয়স্বজনদের পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের সঙ্গে আলাপচারিতা করে বিষয়টি তদন্তের অধীনে রাখা হয়েছে। আত্মীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
হাসপাতালের প্রশাসন ঘটনাটির ব্যাপারে জানিয়ে দেয় যে, রোগীর মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবে শোক প্রকাশের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পদ্ধতি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি ঘটতে পারে। তবে, কোনো ধরনের সহিংসতা বা হিংসাত্মক আচরণকে কঠোরভাবে নিন্দা করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ধরনের ঘটনা স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশে অনিচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্ট উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় এবং রোগীর নিরাপত্তা ও সেবা মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, রোগীর পরিবারকে চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ও সময়মতো তথ্য প্রদান করা উচিত, যাতে অপ্রয়োজনীয় সন্দেহ ও ক্রোধ কমে।
চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীদেরও রোগীর পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে হবে, বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের যোগাযোগের ঘাটতি কখনো কখনো অপ্রয়োজনীয় সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায়, যা রোগীর সেবা নষ্ট করে।
অধিকন্তু, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। জরুরি গেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত, যাতে অপ্রত্যাশিত ঘটনার সময় দ্রুত হস্তক্ষেপ করা যায়।
অবশেষে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, রোগীর মৃত্যুর কারণ সম্পূর্ণভাবে তদন্ত করে প্রকাশ করা হোক এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রোটোকল প্রয়োগ করা হোক। রোগী ও তাদের পরিবারকে শান্ত ও যুক্তিসঙ্গতভাবে সমস্যার সমাধান করার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।



