নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তুলে ধরে জেলা পুলিশ প্রধানের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেন। আবেদনটি বুধবার সন্ধ্যায় করা হয় এবং বিষয়টি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক উভয়ই নিশ্চিত করেছেন। প্রার্থী উল্লেখ করেন, নির্বাচনী ক্যাম্পেইন চলাকালীন অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্ভাবনা তার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাধা সৃষ্টি করছে।
আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, হাতিয়া উপজেলায় এখনও অবৈধ অস্ত্রের গন্ধ পাওয়া যায় এবং নির্বাচনী মাঠে কাজ করার সময় অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি উদ্ভূত হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভোটার ও স্বেচ্ছাসেবকদের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। প্রার্থীর এই আবেদনটি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম উভয়েরই স্বীকৃতি পেয়েছে।
দুজনই উল্লেখ করেন, প্রার্থীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, প্রার্থী কর্তৃক উপস্থাপিত সমস্যাগুলি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও স্থানীয় আইন অনুযায়ী সমাধান করা হবে। জেলা প্রশাসকও একই রকম মন্তব্য করে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয় প্রয়োজন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তায়েব মো. আরিফ হোসেনও বিষয়টি জানিয়ে বলেন, তারা প্রার্থীর আবেদন পেয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিধিমতো ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও কর্মী মোতায়েন করা হবে এবং কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্টের মতে, আইনগত ভিত্তি ও নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই নিরাপত্তা আবেদনটি নির্বাচনের পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) এলাকা পূর্বে অস্ত্রচলাচল ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে নজরে এসেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত চাহিদা পূরণ করা অপরিহার্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোটারদের অংশগ্রহণে কোনো বাধা না আসা নিশ্চিত করা হবে।
নির্বাচনের সময়সূচি অনুসারে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম রাউন্ড শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে, এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো শেষ মুহূর্তে সমাধান করা জরুরি। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা উভয়ই আশ্বাস দিয়েছেন, প্রার্থী ও তার দলকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সেবা প্রদান করা হবে, যাতে নির্বাচনী কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্টের মন্তব্য অনুসারে, নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য স্থানীয় পুলিশ, নির্বাচনী কমিশন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ, নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের সংখ্যা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া প্রোটোকল নির্ধারণ করা হবে।
শেষে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত আবেদনটি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা নিশ্চিত করবে যে, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) অঞ্চলে ভোটার ও প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।



