অস্ট্রেলিয়ার প্রধান বিরোধী জোট লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশন, ঘৃণা বক্তৃতা সংশোধনী নিয়ে মতবিরোধের ফলে ভাগ হয়ে গেছে, যা লিবারেল পার্টির নেতা সুসান লে’র নেতৃত্বকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এই ঘটনা ব্রিসবেনে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়, যখন জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে সঙ্গে দলীয় নেতারা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
কোয়ালিশনটি কেন্দ্রীয়-ডানপন্থী জোট, যা গত বছর ব্যাপক নির্বাচনী পরাজয়ের পর থেকে অস্থির অবস্থায় রয়েছে। লিবারেল ও ন্যাশনাল পার্টির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং নীতি সংক্রান্ত পার্থক্যগুলো পূর্বে বহুবার প্রকাশ পেয়েছে, তবে এইবারের বিভাজন বিশেষভাবে তীব্র।
সর্বশেষ ঘৃণা বক্তৃতা সংশোধনীটি সরকার কর্তৃক বন্ডি বিচের একটি সন্ত্রাসী হামলার পর প্রণয়ন করা হয়, যেখানে একটি ইহুদি উৎসবের সময় ১৫ জন নিহত হয়। এই ঘটনার পর সরকার দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেয়, যাতে অনুপ্রবেশকারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
লিবারেল পার্টি, যদিও বিরোধী জোটের অংশ, তবে সরকারী লেবার পার্টির সঙ্গে একসাথে সংশোধনীটি পার্লামেন্টে পাস করতে সমর্থন জানায়। এই সমর্থনটি পার্টির শ্যাডো ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ঘৃণা বক্তৃতা নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়নের পক্ষে।
ন্যাশনাল পার্টি, যা ঐতিহ্যগতভাবে স্বাধীনতা ও মুক্ত বাক্যের রক্ষায় জোর দেয়, সংশোধনীটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা নিম্নসদনে ভোটে বিরত থাকে এবং উপরে সিনেটে সংশোধনীটির বিরোধিতা করে, কারণ তারা মনে করে আইনটি ত্বরান্বিতভাবে গৃহীত হয়েছে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে হুমকি দিতে পারে।
ন্যাশনাল পার্টির নেতা ডেভিড লিটলপ্রাউড ব্রিসবেনে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানান, “আমাদের পার্টি রুম স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে আমরা সুসান লে’র শ্যাডো মন্ত্রণালয়ে অংশ নিতে পারি না।” তিনি এই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা রাজনৈতিক কারণগুলো সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করেন।
লিটলপ্রাউডের এই ঘোষণাটি ১৪ ডিসেম্বর ঘটিত শুটিংয়ের শোক দিবসে করা হয়, যা জাতীয় শোকের সঙ্গে যুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন যে এই শোকের মুহূর্তে কোয়ালিশনের অব্যাহত থাকা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তাই দলটি বিচ্ছিন্ন হওয়া অনিবার্য।
বিচ্ছিন্নতা সম্পর্কে লিটলপ্রাউড ভবিষ্যতে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা সম্পূর্ণরূপে বাদ দেননি, তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে দু’টি রক্ষণশীল পার্টি কিছু সময় আলাদা থাকলে তা “সম্ভবতই ভাল” হতে পারে। তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক প্রবাহকে স্বীকার করেন।
এটি এক বছরের কম সময়ে ন্যাশনাল পার্টির দ্বিতীয়বারের মতো কোয়ালিশন থেকে বেরিয়ে আসা। গত মে মাসে তারা জলবায়ু ও জ্বালানি নীতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, যা এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধান হয়েছিল। এইবারের বিচ্ছিন্নতা আইনগত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে, যা পার্টির অভ্যন্তরে গভীর মতবিরোধের ইঙ্গিত দেয়।
সুসান লে, লিবারেল পার্টির নেতা, এখনও এই বিচ্ছিন্নতা সম্পর্কে কোনো সরাসরি মন্তব্য করেননি। তবে তিনি শোক দিবসে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেন, “শোকের সময়ে বিরোধী দলের নেতা ও লিবারেল পার্টির নেতা হিসেবে আমার দায়িত্ব অস্ট্রেলিয়ান জনগণের প্রতি।” এই বিবৃতি থেকে তিনি রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও শোকের গুরুত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
বিচ্ছিন্নতার ফলে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে বিরোধী জোটের সমন্বিত শক্তি হ্রাস পাবে, যা সরকারী লেবার পার্টির আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে পারে। একই সঙ্গে, লিবারেল পার্টি একা ঘৃণা বক্তৃতা সংশোধনীকে সমর্থন করার ফলে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও নীতি দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হবে।
ভবিষ্যতে দুই পার্টি কীভাবে তাদের সম্পর্ক পুনর্গঠন করবে, তা অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক দৃশ্যপটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি পুনর্মিলন হয়, তবে উভয় পার্টি তাদের নীতি পার্থক্যগুলো সমন্বয় করে একটি শক্তিশালী বিরোধী জোট গঠন করতে পারে। অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদী বিচ্ছিন্নতা হলে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণশীল ভোটারবাহিনীর বিভাজন ঘটতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে।



