যৌন দুরাচারের বিরুদ্ধে #MeToo আন্দোলনের শীর্ষে উঠে আসা জে. অ্যাশার, ‘13 Reasons Why’ উপন্যাসের রচয়িতা, সম্প্রতি প্রকাশিত এক নিবন্ধে দাবি করেছেন যে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তিনি নিজে শিকারের ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বলেন, তার প্রাক্তন প্রেমিকের পরিকল্পিত প্রতিশোধের অংশ হিসেবে বহু নারী তার ওপর গোপন অভিযোগ তুলেছেন, যার ফলে তার ক্যারিয়ার ও আর্থিক অবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়েছে।
‘13 Reasons Why’ ২০১৭ সালে নেটফ্লিক্সে সিরিজ রূপে প্রকাশের পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে, এবং অ্যাশারকে তরুণ পাঠকদের মধ্যে পরিচিতি এনে দেয়। উপন্যাসটি প্রকাশের পর তিনি বহু পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছিলেন, এবং একই সময়ে একটি বড় স্ক্রিন চুক্তি স্বাক্ষর করে তার সুনাম শীর্ষে পৌঁছায়।
২০১৫ সালের শেষের দিকে, যখন #MeToo আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রে তীব্রতা পায়, তখন অ্যাশারের বিরুদ্ধে একাধিক নারী যৌন অনৈতিকতার অভিযোগ উত্থাপন করে। অভিযোগগুলোতে বলা হয় যে তিনি তরুণ লেখক ও প্রকাশনা কর্মীদের সঙ্গে অনুপযুক্ত সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন, বিশেষ করে বার্ষিক Society of Children’s Book Writers and Illustrators (SCBWI) সম্মেলনে। অ্যাশার স্বীকার করেন যে তিনি ঐ সম্মেলনে কিছু নারীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এসব সম্পর্ক স্বেচ্ছায় এবং কোনো জোরপূর্বক বা শোষণমূলক নয়।
অভিযোগগুলো প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অ্যাশারের প্রকাশনা চুক্তি বাতিল হয়, এবং নেটফ্লিক্সের সঙ্গে তার চুক্তি শেষ হয়ে যায়। তদুপরি, তার পারিবারিক জীবনেও বিশাল পরিবর্তন আসে; তিনি বিবাহবিচ্ছেদ করেন এবং তার আর্থিক অবস্থা দেশের গড় দারিদ্র্য সীমার কাছাকাছি নামে নেমে আসে।
এই ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে The Free Press-এ একটি বিশদ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়, যেখানে লেখক ও সাংবাদিক কেট রোজেনফিল্ড অ্যাশারের দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করেন। নিবন্ধের শিরোনাম “How #MeToo Destroyed the Author of ‘13 Reasons Why’” বলে, এবং এতে বলা হয়েছে যে একাধিক গোপন অভিযোগ একসঙ্গে জমা হয়, যা একটি নির্দিষ্ট প্রাক্তন প্রেমিকের পরিকল্পিত প্রতিশোধের অংশ হিসেবে দেখা যায়। রোজেনফিল্ডের মতে, এই অভিযুক্ত নারীরা একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযোগ উত্থাপন করেন, যা অ্যাশারের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে।
অ্যাশার দাবি করেন যে #MeToo আন্দোলন তার সময়ে অতিরিক্ত তীব্র হয়ে উঠেছিল, এবং সমাজের মধ্যে অপরাধী ও দায়িত্বশীলদের আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, যখন জনমত দ্রুত দোষারোপের দিকে ঝুঁকে যায়, তখন সত্যিকারের অপরাধী ও নির্দোষের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যায়। তার মতে, এই পরিবেশে কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত বিরোধের জন্য আন্দোলনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।
অভিযোগের পরিণতি হিসেবে অ্যাশার প্রকাশনা জগতে প্রবেশের সুযোগ হারিয়ে ফেলেছেন, এবং তার পূর্বের সাফল্য ও স্বীকৃতি এখনো তার কাছে দূরবর্তী মনে হয়। তবুও, তিনি এখনও দাবি করেন যে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় মিডিয়া ও পাঠক উভয়ই বিভক্ত। কেউ কেউ #MeToo আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা ও তার সঠিক দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার অন্যরা দাবি করছেন যে কোনো ধরনের দায়িত্বহীন অভিযোগই ক্ষতিকারক হতে পারে। অ্যাশারের কেস এই বিতর্কের একটি উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে, যেখানে ব্যক্তিগত বিরোধ ও সামাজিক আন্দোলনের সংযোগে জটিলতা দেখা যায়।
বিনোদন জগতে এই ধরনের ঘটনা প্রায়শই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে, এবং শিল্পী ও প্রকাশকদের জন্য সতর্কতা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে তরুণ পাঠক ও দর্শকদের জন্য তৈরি করা কাজের পেছনে থাকা স্রষ্টাদের নৈতিক দায়িত্বের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। অ্যাশারের কেসে দেখা যায় যে, একদিকে সৃজনশীল কাজের প্রশংসা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত আচরণের মূল্যায়ন একসাথে করা কঠিন হতে পারে।
বর্তমানে জে. অ্যাশার তার আর্থিক ও পারিবারিক সমস্যার সমাধানের জন্য বিভিন্ন উপায় খুঁজছেন, এবং একই সঙ্গে তিনি দাবি করছেন যে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পুনরায় তদন্তের প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করছেন যে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় এবং শিল্পের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করা যায়।
এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে, #MeToo আন্দোলনের প্রভাব সমাজের বিভিন্ন স্তরে গভীরভাবে প্রবেশ করেছে, এবং ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে পেশাগত সুনামের মেলবন্ধন কখনো কখনো অপ্রত্যাশিত জটিলতা তৈরি করে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সংঘাতের সমাধানে ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি, যাতে সৃজনশীল শিল্পের বিকাশে কোনো বাধা না আসে।



