স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউরো পারফরম্যান্সে চেলসি পাফোসকে এক গোলের পার্থক্যে পরাজিত করে, ক্যাসেডোর গোলের মাধ্যমে দলটি সরাসরি চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটের পথে অগ্রসর হতে পারে। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত উভয় দলে গোলের সুযোগ কম ছিল, তবে শেষের দিকে চেলসির আক্রমণই গেমের দিক বদলে দেয়।
খেলাটি শুরু থেকেই ধীর গতি ও পূর্বাভাসযোগ্য প্যাটার্নে চলতে থাকে, যা ভক্তদের মধ্যে হতাশা বাড়ায়। পাফোসের রক্ষা শক্তি বেশ দৃঢ় ছিল, ফলে চেলসির শুটিং সুযোগগুলো প্রায়ই বাধাগ্রস্ত হয়। ৭৮ মিনিটে মোইসেস ক্যাসেডোর দৌড়ে পেনাল্টি এরিয়া ভেদ করে একমাত্র গোল করেন, যা ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে।
ক্যাসেডোর গোলটি পাফোসের রক্ষার লাইন ভেঙে গিয়ে চেলসির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করে। গোলের পর চেলসির খেলোয়াড়রা সামান্য সময়ের জন্য মাঠে উদযাপন করে, তবে ভক্তদের নীরবতা দ্রুত ফিরে আসে। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ভক্তরা গোলের পরেও নীরবতা বজায় রাখে, যা দলের পারফরম্যান্সের প্রতি তাদের অসন্তোষের প্রকাশ।
ম্যাচের শেষে ভক্তদের নীরবতা ও চিৎকারের মিশ্রণ দেখা যায়, কারণ কিছু সমর্থক এখনও ক্লাবের মালিকদের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। ভক্তদের এই প্রতিবাদে চেলসির গৃহযুদ্ধের ছাপ স্পষ্ট, যা মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সমস্যারও ইঙ্গিত দেয়।
লিয়াম রোজেনিয়র, ৪১ বছর বয়সী প্রধান কোচ, ম্যাচের পর এক সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমি কাজের উপর মনোযোগ দিতে থাকব, এবং ভক্তদের সমর্থন পেতে আমাদের পারফরম্যান্সে প্রমাণ দিতে হবে।” রোজেনিয়রের এই বক্তব্যে তার দলের প্রতি আস্থা ও ভক্তদের সঙ্গে পুনঃসংযোগের ইচ্ছা প্রকাশ পায়।
চেলসির পরবর্তী চ্যালেঞ্জ নাপোলির সঙ্গে হবে, যা দলকে সরাসরি চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটের স্লটে নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ। নাপোলি ইতিমধ্যে লিগে অগ্রগতি বজায় রাখতে জয় দরকার, অন্যদিকে চেলসির গোল পার্থক্য বাড়াতে হবে। উভয় দলই শেষ ম্যাচে উচ্চ ঝুঁকির মুখোমুখি, ফলে গেমের তীব্রতা বাড়বে।
ইতালীয় চ্যাম্পিয়ন নাপোলি এই ম্যাচে জয় না পেলে গ্রুপ থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি থাকে, ফলে তারা আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করবে বলে আশা করা যায়। চেলসির জন্য নাপোলির শক্তিশালী প্রতিরক্ষা মোকাবেলা করা কঠিন হতে পারে, তবে রোজেনিয়রের দল এখনো গেমের শেষ পর্যায়ে আত্মবিশ্বাস বজায় রাখে।
পাফোস সাইপ্রাসের চ্যাম্পিয়ন হলেও ইউরো টেবিলে ৩০তম স্থানে রয়েছে, এবং তারা স্লাভিয়া প্রাগের সঙ্গে পরের সপ্তাহে প্লে-অফের জন্য লড়াই করবে। পাফোসের এই ম্যাচে পারফরম্যান্স তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে, যদিও গ্রুপে তাদের অবস্থান দুর্বল।
চেলসির ইউরো যাত্রা শুরুতে ব্যায়ার্ন মিউনিখের কাছে পরাজয় দিয়ে শুরু হয়, তবে পরবর্তীতে আজাক্স ও বেনফিকার বিরুদ্ধে স্বচ্ছন্দ জয় অর্জন করে। তবে কোরাবাগের বিরুদ্ধে পয়েন্ট হারানো এবং বার্সেলোনার সঙ্গে বড় জয় সত্ত্বেও আটালান্টার বিরুদ্ধে ১-০ এগিয়ে থাকা অবস্থায় গেম হারিয়ে দলটি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
এই অস্থির পারফরম্যান্সের মধ্যে চেলসির নতুন কোচিং স্টাফের পরিবর্তন দলকে নতুন উদ্যম দিয়েছে বলে রোজেনিয়র উল্লেখ করেন। মাঝ-সিজনের পরিবর্তনগুলো দলকে পুনর্গঠন ও মনোবল বাড়াতে সহায়তা করেছে, যদিও এখনও ফলাফল স্থিতিশীল নয়।
সারসংক্ষেপে, চেলসির পাফোসের বিরুদ্ধে জয় দলকে সরাসরি চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটের স্লটে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়িয়েছে, তবে ভক্তদের প্রতিবাদ ও গেমের ধীর গতি এখনও সমাধানযোগ্য বিষয় রয়ে গেছে। রোজেনিয়রের নেতৃত্বে দলটি নাপোলির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে গোল পার্থক্য ও মানসিক দৃঢ়তা মূল চাবিকাঠি হবে।



