চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ ম্যাচে চেলসি এবং সাইপ্রাসের পাফোস মুখোমুখি হয়। লিয়াম রোজেনিয়রের প্রথম ইউরোপীয় ম্যাচে দলটি কঠিন মুহূর্তের সম্মুখীন হলেও, শেষের দিকে মোইসেস ক্যাসেডোর হেডার গোল দিয়ে জয় নিশ্চিত করে। এই জয় চেলসিকে টেবিলে অষ্টম স্থানে নিয়ে আসে এবং সরাসরি রাউন্ড অফ ১৬-এ প্রবেশের আশা জোরদার করে।
রোজেনিয়রের চতুর্থ দায়িত্বকালে দলটি প্রায়ই চাপের মধ্যে আটকে গিয়েছিল। পাফোসের আক্রমণাত্মক খেলায় চেলসির রক্ষা ব্যবস্থা বেশ সময়ের জন্য ভেঙে যায়, তবে শেষের মিনিটে ক্যাসেডোর শিরোনামী হেডার গেমের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ম্যাচের শেষের পাঁচ মিনিটে স্কোর সমান থাকায় উভয় দলে উত্তেজনা শীর্ষে পৌঁছায়, কিন্তু ক্যাসেডোর শটটি গন্তব্যে পৌঁছে পয়েন্ট নিশ্চিত করে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চেলসির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে উত্থান-পতন দেখা যায়। প্রথম ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে পরাজয়, এরপর আজাক্স ও বেনফিকার বিরুদ্ধে স্বচ্ছন্দ জয়, তবে কারাবাগের বিরুদ্ধে পয়েন্ট হারানো এবং বার্সেলোনার বিপক্ষে বড় জয়ও ছিল। গত মাসে আটালান্টার বিরুদ্ধে ১-০ অগ্রগতিতে শুরু করে শেষ পর্যন্ত হারতে বাধ্য হওয়া দলটির ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
ইতিহাসে মাঝ-সিজনের কোচ পরিবর্তন চেলসির জন্য সাফল্যের চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১২ সালে রোবার্টো ডি মাত্তেও এবং ২০২১ সালে থমাস টুচেল উভয়ই মাঝের সময়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্লাবকে ইউরোপীয় শিরোপা জয় করাতে সক্ষম হন। তবে উভয় কোচের অধীনে দলটি অভিজ্ঞ ও জয়ী খেলোয়াড়ে গঠিত ছিল, যেখানে রোজেনিয়রের হাতে বর্তমানে তুলনামূলকভাবে তরুণ দল রয়েছে।
চেলসির বর্তমান মালিকানার প্রতি সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষের স্রোত রয়েছে, কারণ তারা মনে করেন দলটি অতীতের গৌরবের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ডেভিড লুইজের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজরে আসে; ৩৭ বছর বয়সী ডিফেন্ডারটি পাফোসের বেঞ্চে বসে ছিলেন এবং হ্যামস্ট্রিং সমস্যার সত্ত্বেও মাঠে নামেন। তিনি ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ চ্যাম্পিয়নশিপে এবং ২০১৭ সালে অ্যান্টোনিও কন্টের অধীনে প্রিমিয়ার লিগ জয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
পাফোসের দলে ক্যানারিয়ান খেলোয়াড় কেন সেমা বামফ্ল্যাঙ্কে উপস্থিত ছিলেন, আর আক্রমণে ক্রোয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড মিস্লাভ অরসিকের নাম উল্লেখযোগ্য। অরসিক পূর্বে ডিনামো জাগ্রেবের হয়ে খেলা সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে টুচের দলকে পরাজিত করেছিল। যদিও পাফোসের আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টা কিছু সময়ে চেলসির রক্ষাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, তবে শেষের মুহূর্তে ক্যাসেডোর গোলই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে।
চেলসির পরবর্তী গ্রুপ ম্যাচে ইতালির নাপোলির মুখোমুখি হতে হবে। দলটি এখনো গ্রুপের শেষ রাউন্ডে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে সরাসরি রাউন্ড অফ ১৬-এ প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়ে। রোজেনিয়রের জন্য এই ম্যাচটি কোচিং ক্যারিয়ারের একটি বড় পরীক্ষা, যেখানে তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বাড়াতে এবং দলকে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন।
সারসংক্ষেপে, চেলসির পাফোসের বিরুদ্ধে জয় ক্যাসেডোর শেষ মুহূর্তের হেডার ছাড়া সম্ভব হতো না। দলটি যদিও এখনও ধারাবাহিকতার সমস্যায় ভুগছে, তবে এই জয় তাদের টেবিলের অবস্থান উন্নত করেছে এবং পরবর্তী নাপোলি ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস যোগিয়েছে।



