নরওয়ের আর্টিক সার্কেলের কাছাকাছি অবস্থিত ছোট শহর বোডো, যেখানে প্রায় ৫৫ হাজার বাসিন্দা বসবাস করে এবং শীতল বাতাস সবসময় প্রবাহিত হয়, ২০২৪ সালের ইউইউ চ্যাম্পিয়নস লিগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইংল্যান্ড থেকে ৩৭৪ জন ম্যানচেস্টার সিটি সমর্থক তাদের প্রিয় দলের ম্যাচ দেখার জন্য কঠিন শীতল আবহাওয়া এবং দীর্ঘ যাত্রা অতিক্রম করে বোডোতে পৌঁছায়। তারা আশা করেছিল উত্তেজনাপূর্ণ ফুটবল এবং জয়ের সম্ভাবনা, তবে শেষ পর্যন্ত ফলাফল ভিন্ন রকমের হয়ে দাঁড়ালো।
বোডো/গ্লিমটের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি ৩-১ স্কোরে পরাজিত হয়। গ্লিমটের প্রথম গোলের পর সিটি ত্রিপল করে ফিরে আসে, তবে শেষ পর্যন্ত গ্লিমটের একক গোলই দলকে জয় এনে দেয়। এই ফলাফল গ্লিমটের লিগে প্রথম জয় হিসেবে রেকর্ড হয়।
ম্যাচের পর ক্লাবের চারজন খেলোয়াড়—বার্নার্ডো সিলভা, রুবেন দিয়াস, এরলিং হাল্যান্ড এবং রদ্রি—একত্রে সমর্থকদের ত্যাগের প্রশংসা করে এবং ভ্রমণ ব্যয়ের পূর্ণ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। মোট ফেরতযোগ্য অর্থ ৯,৩৫৭ পাউন্ড, যা সমর্থকদের আর্থিক বোঝা কমাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ক্লাবের একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সমর্থকই আমাদের সাফল্যের মূল ভিত্তি। তারা ঘরে হোক বা বিদেশে, তাদের ত্যাগ আমরা কখনো হালকাভাবে নিই না।” এই বক্তব্যে সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং তাদের অবিচল সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কঠিন শীতল আবহাওয়া এবং দূরবর্তী গন্তব্যে সমর্থকদের আসা ক্লাবের জন্য ন্যূনতম দায়িত্ব। টিকিটের খরচ বহন করা এবং ভ্রমণ ব্যয় ফেরত দেওয়া ক্লাবের সমর্থকদের প্রতি সম্মানসূচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ক্লাবের ক্যাপ্টেন কেভিন ডি ব্রুইনে (কেভিন পারকারের কথায়) সমর্থকদের বিশ্বজুড়ে যেকোনো প্রান্তে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমাদের সমর্থকরা সর্বদা দলের পাশে থাকে, তাপমাত্রা যাই হোক না কেন।” এই মন্তব্য সমর্থক-দল সম্পর্কের দৃঢ়তা প্রকাশ করে।
ম্যাচের সময় শীতল বাতাস এবং তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে যাওয়ায় সমর্থকদের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। তবুও, তাদের উত্সাহ এবং উল্লাস মাঠে দৃশ্যমান ছিল, যা গ্লিমটের জয়কে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
ম্যানচেস্টার সিটির এই পরাজয় তাদের লিগে তিনটি পরাজয় এবং তিনটি জয়ের সমন্বয়ে গঠিত যাত্রার অংশ। যদিও দলটি জয়ের আশা নিয়ে মাঠে নামেছিল, তবে গ্লিমটের দৃঢ় প্রতিরক্ষা এবং দ্রুত আক্রমণ তাদের পরিকল্পনা ব্যাহত করে।
ফেরতযোগ্য ব্যয়ের ঘোষণা ক্লাবের সমর্থক নীতি এবং আর্থিক দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। ভ্রমণ ব্যয় ফেরত দেওয়া সমর্থকদের আর্থিক চাপ কমিয়ে, ভবিষ্যতে আরও বেশি ভক্তকে আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে।
এই ঘটনার পর ম্যানচেস্টার সিটি পরবর্তী চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে থাকবে, তবে ক্লাবের অগ্রাধিকার এখন সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করা এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতি প্রদান।
বোডোতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি কেবল একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়, বরং সমর্থক-দল সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। শীতল আর্টিক বাতাসের মাঝেও উষ্ণ সমর্থকের উল্লাস এবং ক্লাবের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



