মেল ব্রুকসের ৯৯ বছর বয়সী জীবনীমূলক ডকুমেন্টারি HBO-তে দুই ভাগে, জানুয়ারি ২২ ও ২৩ তারিখে রাত আটটায় সম্প্রচারিত হয়েছে। এই প্রোগ্রামটি কমেডি জায়ান্টের দীর্ঘায়ু ও সৃষ্টিশীল যাত্রাকে বিশদভাবে উপস্থাপন করে।
ডকুমেন্টারিটি হল Judd Apatow ও Mike Bonfiglio-র তৃতীয় যৌথ প্রকল্প, পূর্বের গ্যারি শ্যান্ডলিং ও জর্জ কার্লিনের জীবনীমূলক সিরিজের পরের ধারাবাহিক। শ্যান্ডলিং ও কার্লিনের ক্ষেত্রে নির্মাতাদেরকে মৃত ব্যক্তির কণ্ঠ পুনর্নির্মাণে অতিরিক্ত প্রচেষ্টা করতে হয়েছিল, তবে মেল ব্রুকসের ক্ষেত্রে তিনি জীবিত ও ৯৯ বছর বয়সে উপস্থিত থাকায় সরাসরি সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাওয়া গেছে।
ডকুমেন্টারির পরিচালনায় Apatow ক্যামেরার সামনে উপস্থিত, যেখানে তিনি মেল ব্রুকসের সঙ্গে সরাসরি আলাপ করেন। Bonfiglio-র সঙ্গে যৌথভাবে এই কাজটি গঠন করা হয়েছে, এবং উভয়েরই কমেডি জগতে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
প্রোগ্রামটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় চার ঘণ্টা, যা দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ভাগে মেল ব্রুকসের শৈশব, পরিবারিক পটভূমি এবং শোব্যাকের সূচনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় ভাগে তার সাম্প্রতিক কাজ, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রকল্প, এবং শিল্পের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ডকুমেন্টারিটি মেল ব্রুকসের রসিকতা, সৃষ্টিশীলতা এবং চলচ্চিত্র, থিয়েটার, টেলিভিশন ক্ষেত্রে অবদানের ওপর আলোকপাত করে। তার “ব্লেজিং স্যাডলস”, “ইয়ং ফ্রাঙ্কেনস্টাইন”, “স্পেসবলস” ইত্যাদি ক্লাসিক কমেডি চলচ্চিত্রের উল্লেখ প্রোগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রোগ্রামে কার্ল রেইনার, রব রেইনার, নরম্যান লিয়ার এবং অ্যান বাঙ্ক্রফটের মতো সহকর্মী ও বন্ধুদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও কিছু ব্যক্তিরা কেবল আর্কাইভাল ফুটেজে উপস্থিত, তবু তাদের স্মৃতি ও মন্তব্য মেল ব্রুকসের ব্যক্তিত্বের বহুমুখিতা প্রকাশ করে।
এই সাক্ষাৎকারগুলো মেল ব্রুকসের শিল্পের প্রতি উত্সাহ, তার দীর্ঘায়ু ও সৃষ্টিশীল শক্তির গোপনীয়তা উন্মোচন করে। বিশেষ করে রেইনার দম্পতির সঙ্গে তার বন্ধুত্ব এবং লিয়ার ও বাঙ্ক্রফটের সঙ্গে কাজের স্মৃতি দর্শকের কাছে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দেয়।
প্রযোজকরা ডকুমেন্টারিটিকে তথ্যবহুল ও বিনোদনমূলকভাবে সাজিয়েছেন। হালকা হাস্যরসের সঙ্গে গভীর আবেগময় মুহূর্ত মিশিয়ে, দর্শকরা হাসি ও কাঁদার মিশ্র অনুভূতি পেতে পারেন। বিশেষ করে দ্বিতীয় অংশে এমন দৃশ্য রয়েছে যেখানে পুরনো কাজের ক্লিপ ও সহকর্মীদের স্মৃতিচারণা একসাথে মিশে, যা চোখে জল এনে দেয়।
ডকুমেন্টারির নির্মাণে বিস্তৃত আর্কাইভাল উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। পুরনো টেলিভিশন শো, সিনেমা দৃশ্য, ব্যক্তিগত চিত্র ও অডিও রেকর্ডিং অন্তর্ভুক্ত করে প্রোগ্রাটিকে সমৃদ্ধ করা হয়েছে, যা মেল ব্রুকসের ক্যারিয়ারের পূর্ণ চিত্র উপস্থাপন করে।
এই কাজটি মেল ব্রুকসের ৯৯তম জন্মদিনের কাছাকাছি সময়ে প্রকাশিত, যা তার দীর্ঘায়ু ও শিল্পে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা যায়। ডকুমেন্টারিটি তার ক্যারিয়ারের সমগ্র চিত্রণ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে, যেখানে হাস্যরসের পাশাপাশি মানবিক দিকও তুলে ধরা হয়েছে।
HBO-র এই দুই-অংশের প্রোগ্রামটি বিনোদনপ্রেমী ও চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আগ্রহী দর্শকদের জন্য অপরিহার্য। এটি একই সঙ্গে শিক্ষামূলক ও আবেগময় অভিজ্ঞতা প্রদান করে, যা মেল ব্রুকসের কাজের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে।
শেষে, মেল ব্রুকসের জীবনের এই বিশদ চিত্রণ দর্শকদেরকে তার কাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জাগিয়ে তুলবে এবং ভবিষ্যতে তার উত্তরাধিকারকে কীভাবে সংরক্ষণ করা যায় তা নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে।



