বিবিসি বুধবার আমেরিকান ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবের সঙ্গে একটি নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানায় যে, এই চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশ সম্প্রচারকের নিজস্ব গল্প এবং সংবাদকে বিশ্বব্যাপী তরুণ দর্শকদের কাছে তুলে ধরা হবে।
এই সহযোগিতা বিবিসিকে ইউটিউবের ওপর তার উপস্থিতি বাড়াতে সহায়তা করবে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য উপযোগী কন্টেন্ট তৈরি করা হবে। চুক্তির অংশ হিসেবে ইউটিউবের ব্যবহারকারী ভিত্তি লক্ষ্য করে ভিডিওগুলোকে স্থানীয়কৃত করে উপস্থাপন করা হবে।
নতুন কন্টেন্টের মধ্যে বিজ্ঞাপনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তবে তা শুধুমাত্র যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে প্রবেশ করা দর্শকদের জন্যই প্রদর্শিত হবে। এই বিজ্ঞাপন আয় বিবিসির আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে, কারণ সম্প্রচারকটি বর্তমানে তহবিল সংগ্রহের মডেল নিয়ে প্রশ্নের মুখে রয়েছে।
বিবিসি এই চুক্তির আর্থিক শর্তাবলী প্রকাশ করেনি, তবে ইউটিউবের মালিক অ্যালফাবেট (গুগল) এর সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নতুন প্রোগ্রামিংয়ে বিনিয়োগ, বিবিসি কন্টেন্টের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি এবং ব্রিটিশ স্রষ্টাদের দক্ষতা উন্নয়ন করা হবে।
বিবিসির বার্ষিক লাইসেন্স ফি বর্তমানে প্রতি গৃহস্থালিতে £174.50 (প্রায় $234) নির্ধারিত, যা দেশের টেলিভিশন দর্শকদের জন্য বাধ্যতামূলক। এই ফি ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে না, তাই অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে ইউটিউবের বিজ্ঞাপন আয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিবিসির প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল টিম ডেভি অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বিবিসি সকলের জন্য মূল্যবান হতে হবে, এবং এই নতুন সহযোগিতা আমাদেরকে নতুন পদ্ধতিতে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করবে।”
ইউটিউবের ইইউ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা (EMEA) অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট পেড্রো পিনা এই চুক্তিকে “ডিজিটাল-প্রথম দর্শকদের জন্য বিশ্বমানের কন্টেন্টকে পুনর্গঠন” করার সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি যোগ করেন, “এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিবিসির সাংস্কৃতিক প্রভাবকে তরুণ ও বৈশ্বিক দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।”
চুক্তির মূল লক্ষ্য হল তরুণ প্রজন্মের স্রষ্টাদের প্রশিক্ষণ ও সমর্থন প্রদান, যাতে তারা ভবিষ্যতে নিজস্ব কন্টেন্ট তৈরি করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিযোগিতা করতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিবিসি ইউটিউবের বিশাল ব্যবহারকারী ভিত্তি ব্যবহার করে সৃজনশীল প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করবে।
ইউটিউবের বিজ্ঞাপন নীতি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে প্রবেশ করা ব্যবহারকারীদের জন্যই বিজ্ঞাপন চালু হবে, ফলে যুক্তরাজ্যের দর্শকদের জন্য কোনো অতিরিক্ত খরচ হবে না। এই ব্যবস্থা বিবিসির বিদ্যমান লাইসেন্স ফি মডেলকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করবে।
বিবিসি ও ইউটিউবের এই অংশীদারিত্ব প্রযুক্তি ও মিডিয়া শিল্পে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী সম্প্রচারক এবং আধুনিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় ঘটছে। উভয় পক্ষই বিশ্বাস করে যে, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে কন্টেন্ট উৎপাদন ও বিতরণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনবে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রচলিত টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাদের উপস্থিতি শক্তিশালী করতে পারবে, যা দর্শকের পরিবর্তনশীল পছন্দের সাথে মানিয়ে নিতে সহায়ক।
সারসংক্ষেপে, বিবিসি ও ইউটিউবের নতুন চুক্তি কন্টেন্টের গুণগত মান বজায় রেখে তরুণ ও বৈশ্বিক দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখে, একই সঙ্গে বিবিসির আর্থিক স্বাস্থ্যের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সম্ভাবনা তৈরি করে।



