ঢাকা শহরের নায়াপাল্টন এলাকায় অবস্থিত শারমিন একাডেমিতে ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১২ঃ৫১টায় রেকর্ড করা সিসিটিভি ফুটেজে প্রায় চার-পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশুকে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওতে একটি গোলাপী শাড়ি পরা নারীর হাত ধরে শিশুটিকে স্কুলের অফিসে নিয়ে যাওয়া দেখা যায়, যেখানে আরেকজন পুরুষ শিক্ষক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি ডেস্কের পেছনে বসে ছিলেন।
ফুটেজে দেখা যায়, নারিটি শিশুটিকে বারবার চাপে হাততালি দিয়ে তাড়া-তাড়ি করে এবং তীব্রভাবে তিরস্কার করে। শিশুর মুখে ভয় ও কাঁদা স্পষ্ট, আর নারিটি তীব্র তিরস্কারের মাঝেও হাসি দিয়ে পরিস্থিতি চালিয়ে যায়।
একই সময়ে, পুরুষ শিক্ষকটি একটি স্ট্যাপলার হাতে নিয়ে শিশুর মুখে স্ট্যাপল লাগিয়ে শাস্তি দেওয়ার হুমকি দেয়। তার এই হুমকি শিশুর ভয়কে আরও বাড়িয়ে দেয়, ফলে শিশুটি কাঁদতে থাকে এবং ভীত অবস্থায় থাকে।
ভিডিওটি ফেসবুকে আইনজীবী সেলেহ উদ্দিন শেয়ার করেন এবং তা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে এটি প্রতিষ্ঠানের শাস্তি পদ্ধতির একটি উদাহরণ। তিনি অভিভাবকদের সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানান এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।
পাল্টন থানা তদন্তকারী ইনস্পেক্টর মনিরুজ্জামান জানান, পুলিশ ইতিমধ্যে শিশুর পরিবারকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডেকেছে। তবে পরিবারটি তৎক্ষণাৎ কোনো আইনি অভিযোগ দায়ের করতে সম্মত হয়নি; তারা বিষয়টি পরিবারের মধ্যে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানায়।
শিশু শারীরিক শাস্তি সম্পর্কিত আইনি প্রেক্ষাপটের দিকে তাকালে, ২০১১ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে বিদ্যালয়ে শারীরিক শাস্তি শিশুদের সংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন বলে ঘোষণা করা হয়। একই বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি নোটিশ জারি করে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করে।
এই নোটিশের পরেও শারমিন একাডেমিতে ঘটিত ঘটনা আইনগত নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমানে পুলিশ বিষয়টি তদন্তের অধীনে রাখে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকমণ্ডলীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিশু কল্যাণ দপ্তরকে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তদারকি বাড়াতে এবং বিদ্যালয়গুলোতে শারীরিক শাস্তি না করার নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবক ও সমাজের দায়িত্ব হল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের প্রতি নজর রাখা এবং কোনো অনুচিত শাস্তি ঘটলে তা সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো।
শিশু অধিকার সংরক্ষণে আইনগত কাঠামো বিদ্যমান থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি দেখা যায়; তাই এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে রোধে সচেতনতা ও তদারকি বৃদ্ধি করা জরুরি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় পুলিশ এই মামলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিলে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষার পরিবেশকে নিরাপদ করে তুলবে।



