সঙ্গীত জগতের বিশিষ্ট গীতিকার টেইলর সুইফট ২০২৬ সালের সঙরাইটার্স হল অব ফেমে সর্বকনিষ্ঠ নারী সদস্য হিসেবে নাম নথিভুক্ত হয়েছে। ৩৬ বছর বয়সী এই পপ আইকনকে নয়জন সঙ্গীতশিল্পীর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে কানাডা-আমেরিকান গায়িকা-গীতিকার অ্যালানিস মরিসেট এবং মারিয়া কেয়ারের সঙ্গে কাজ করা ওয়াল্টার আফানাসিফের নাম রয়েছে।
হল অব ফেমের সদস্যপদটি নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত একটি গোপনীয় অনুষ্ঠানে প্রদান করা হবে, যা বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা বিশ্বজনীন জনপ্রিয় সঙ্গীতের সেরা রচনাগুলোর স্রষ্টাদের সম্মান জানায় এবং প্রতি বছর সীমিত সংখ্যক শিল্পীকে স্বীকৃতি দেয়। গত পাঁচ দশকে মোট পাঁচশোয়ের কম ব্যক্তিই এই সম্মান পেয়েছেন।
বছরের নির্বাচিত সদস্যদের তালিকা ঘোষণার সময় চিফ এবং চিকের প্রধান নাইল রজার্স উল্লেখ করেন, এই বছরকের তালিকায় আইকনিক গানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধারার সঙ্গীতের ঐক্যকে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, এই গীতিকারা বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি শ্রোতার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছেন এবং তাদের অবদানকে সম্মানিত করা আমাদের গর্বের বিষয়।
টেইলর সুইফটের সাফল্য শুধুমাত্র গীতিকারের দিকেই সীমাবদ্ধ নয়; তিনি সর্বকালের অন্যতম বিক্রয়শীল শিল্পী হিসেবে পরিচিত। তার বারোটি স্টুডিও অ্যালবাম এবং চারটি পুনর্নির্মিত “টেইলর’স ভার্সনস” অ্যালবাম বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ কপিতে বিক্রি হয়েছে। সর্বশেষ অ্যালবাম “দ্য লাইফ অফ এ শোগার্ল” অক্টোবর মাসে প্রকাশের পর নিজস্ব বিক্রয় রেকর্ড ভেঙে দেয়।
এই অ্যালবামটি যুক্তরাজ্যের ২০২৫ সালের সর্ববৃহৎ উদ্বোধনী সপ্তাহের রেকর্ড গড়ে তুলেছে, মাত্র তিন দিনের মধ্যে ৩০৪,০০০ কপি বিক্রি হয়েছে। একই সময়ে, টেইলর তার প্রথম ছয়টি অ্যালবামের অধিকার পুনরায় অর্জন করেন, যা তার সঙ্গীতের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘকালীন বিতর্কের সমাপ্তি ঘটায়।
২০২৬ সালের সঙরাইটার্স হল অব ফেমে টেইলরের পাশাপাশি ক্রিস্টোফার “ট্রিকি” স্টুয়ার্টের নামও রয়েছে, যিনি বিয়ন্সের “সিঙ্গেল লেডিজ” এবং “ব্রেক মাই সোল” গানের পেছনে ছিলেন। রক ব্যান্ড কিসের পল স্ট্যানলি ও জিন সিমন্স, এবং ফুটলুসের গায়ক-গীতিকার কেনি লোগিন্সের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
টিনা টার্নারের “হোয়াটস লাভ গট টু ডু উইথ ইট” গানের স্রষ্টা টেরি ব্রিটেন ও গ্রাহাম লাইলে-ও এই সম্মান পেয়েছেন। এই গীতিকারা প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব ধারায় সঙ্গীতের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন রেখে গেছেন।
টেইলরের ক্যারিয়ারকে সংক্ষেপে বলা যায়, তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সঙ্গীতের শীর্ষে রয়েছেন এবং তার সৃষ্টিগুলো বিশ্বব্যাপী শ্রোতার হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে। তার গানের লিরিক্স ও সুরের সংমিশ্রণ তরুণ-যুবকদের পাশাপাশি বয়স্ক শ্রোতাদেরও আকৃষ্ট করে।
সঙরাইটার্স হল অব ফেমের সদস্যপদ তার জন্য একটি নতুন মাইলফলক, যা তার গীতিকারের দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতাকে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি দেয়। এই সম্মান তার ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য নতুন উদ্দীপনা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নাইল রজার্সের মন্তব্যে দেখা যায়, এই বছরকের তালিকায় বিভিন্ন ধারার গীতিকারা একত্রিত হয়েছে, যা সঙ্গীতের বৈচিত্র্য ও ঐক্যের প্রতীক। টেইলরের অন্তর্ভুক্তি এই বৈচিত্র্যের অন্যতম উজ্জ্বল উদাহরণ।
টেইলর সুইফটের সঙ্গীতের অধিকার পুনরায় অর্জন এবং তার অ্যালবামের বিশাল বিক্রয় উভয়ই শিল্পের ব্যবসায়িক দিকের সফলতা নির্দেশ করে। তিনি শিল্পী হিসেবে সৃজনশীলতা এবং ব্যবসায়িক কৌশল উভয় ক্ষেত্রেই উদাহরণস্বরূপ কাজ করছেন।
সর্বশেষে, টেইলর সুইফটের সঙরাইটার্স হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্তি সঙ্গীত জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা তার ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গীতিকারদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।



