28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল ট্রাম্পের গাজা শান্তি পর্ষদে যোগ দিচ্ছে

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল ট্রাম্পের গাজা শান্তি পর্ষদে যোগ দিচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গাজা সংকট সমাধানের জন্য গঠিত শান্তি পর্ষদে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং ইসরায়েল উভয়ই অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। দু’টি দেশই মঙ্গলবারই ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে, যা গাজা অঞ্চলের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে গঠিত এই পর্ষদের কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে। ট্রাম্পের ২০‑ধাপের শান্তি পরিকল্পনা এবং তার প্রথম মেয়াদে স্বাক্ষরিত ‘আব্রাহাম চুক্তি’কে ভিত্তি করে এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন অর্জন করতে হবে।

ইউএই সরকার মঙ্গলবারই জানায় যে তারা ট্রাম্পের আহ্বান মেনে গাজা শান্তি পর্ষদে যোগ দেবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই সিদ্ধান্তটি গাজা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

ইউএইয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতি প্রশংসা করে বলেন, তার গাজা যুদ্ধের সমাপ্তিতে ভূমিকা এবং ‘আব্রাহাম চুক্তি’র সাফল্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করে যে ট্রাম্পের উদ্যোগ গাজা জনগণের বৈধ অধিকার রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের ২০‑ধাপের শান্তি পরিকল্পনার গুরুত্বের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইউএইর আস্থা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, গাজা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিশ্চিত করতে এই পর্ষদে অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও একই দিনে তার সরকারকে গাজা শান্তি পর্ষদে অংশগ্রহণের অনুমোদন দেন। দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, ইসরায়েল ট্রাম্পের প্রস্তাবিত কাঠামোর অংশ হিসেবে গাজা অঞ্চলের ভবিষ্যৎ পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায়।

ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৩ সালে গাজা অঞ্চলে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পরও নেতানিয়াহু এই পর্ষদে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে পর্ষদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন যে ট্রাম্প নিজেই এই পর্ষদের সদস্য এবং পরিচালনায় যুক্ত থাকায় তার স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পর্ষদের সিদ্ধান্তের বস্তুনিষ্ঠতা ও কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

গাজা শান্তি পর্ষদকে গাজা ও ইসরায়েলের দুই বছরের যুদ্ধের পর অঞ্চলের প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পর্ষদের নির্বাহী কমিটিতে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার অন্তর্ভুক্ত।

ট্রাম্পের এই উদ্যোগের মূল ভিত্তি তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বিদেশ সফরের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে করা ভিজিট, যা মে ২০২৫-এ অনুষ্ঠিত হয়। সেই সফরের পর থেকে ইউএই এবং অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়ে আসছে।

এ পর্যন্ত অন্তত পঞ্চাশের বেশি দেশ এই শান্তি পর্ষদে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই বিস্তৃত সমর্থন গাজা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি গড়ে তোলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে।

পর্ষদের কার্যক্রম শুরু হলে গাজা অঞ্চলের পুনর্গঠন, মানবিক সহায়তা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য নতুন কাঠামো তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ইসরায়েল ও প্যালেস্টাইনের মধ্যে চলমান উত্তেজনা, পাশাপাশি আইসিসি-র গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এই প্রক্রিয়ার সাফল্যকে জটিল করে তুলতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে ইউএই এবং ইসরায়েলের অংশগ্রহণ গাজা শান্তি পর্ষদকে আঞ্চলিক স্তরে বৈধতা দেবে এবং ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। তবে পর্ষদের স্বচ্ছতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখা হবে কিনা, তা ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষণ করা দরকার।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments