১ জানুয়ারি শুক্রবার, টিমুর বেকমামবেটভের নতুন থ্রিলার ‘মার্সি’ বড় পর্দায় প্রকাশিত হবে। ক্রিস প্র্যাট, রেবেকা ফারগুসন, কালি রেইস, অ্যানাবেল ওয়ালিস, ক্রিস সুলিভান এবং কাইলি রজার্সসহ বিশাল কাস্টের সঙ্গে এই ছবিটি একটি অদ্ভুত বিচার প্রক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। প্র্যাটের চরিত্র ক্রিস রেভেনের স্ত্রীকে হত্যা করার অভিযোগে তাকে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিচারক, মাডডক্সের সামনে দাঁড়াতে হয়, যার ভূমিকা রেবেকা ফারগুসন পালন করছেন।
টিমুর বেকমামবেটভের নামটি ‘স্ক্রিনলাইফ’ শৈলীর সঙ্গে যুক্ত, যেখানে পুরো গল্পটি বিভিন্ন ডিভাইসের স্ক্রিনের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়। ‘আনফ্রেন্ডেড’, ‘সার্চিং’ এবং ‘প্রোফাইল’ ছবিগুলোতে তিনি এই পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করে তোলেন। ‘মার্সি’ তেও দরজার বেল ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা, ড্রোন, আইফোন ইত্যাদি থেকে নেওয়া ফুটেজের মাধ্যমে ঘটনাগুলোকে সাজানো হয়েছে। ফলে দর্শকেরা স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা অবস্থায়ই পুরো নাটকটি অনুসরণ করতে পারেন।
চলচ্চিত্রের মূল কাহিনী ক্রিস রেভেনের নির্দোষতা প্রমাণের সংগ্রামকে কেন্দ্র করে। তার স্বামীকে হত্যা করার অভিযোগে তাকে একটি অদ্ভুত আদালতে হাজির করা হয়, যেখানে মানব বিচারকের বদলে একটি অ্যালগরিদমিক বিচারক মাডডক্স তার ভাগ্য নির্ধারণ করে। রেভেনকে চেয়ারে বাঁধা অবস্থায়, তার স্বীকারোক্তি ও প্রমাণ সংগ্রহের দৃশ্যগুলো বেশিরভাগই স্ক্রিনের মাধ্যমে দেখানো হয়, যা দর্শকের জন্য একধরনের তীব্র মনোযোগের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।
‘মার্সি’ এর সময়কাল প্রায় এক ঘণ্টা চুয়ালিশ মিনিট, এবং এটি পিজি-১৩ রেটিং পেয়েছে, যা তরুণ দর্শকদের জন্য উপযুক্ত। ছবির নির্মাণে মারকো ভ্যান বেল্লে স্ক্রিনপ্লে লিখেছেন, আর টিমুর বেকমামবেটভ পরিচালনা করেছেন। কাস্টের মধ্যে ক্রিস প্র্যাটের পাশাপাশি রেবেকা ফারগুসনের তীক্ষ্ণ অভিনয়, কালি রেইসের শক্তিশালী উপস্থিতি এবং অ্যানাবেল ওয়ালিসের মর্মস্পর্শী চরিত্রগুলো উল্লেখযোগ্য।
‘মার্সি’ তে ব্যবহৃত স্ক্রিনলাইফ পদ্ধতি যদিও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে এটি পূর্বের কিছু ক্লাসিক চলচ্চিত্রের স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৯৭১ সালের সিডনি লুমেটের ‘দ্য অ্যান্ডারসন টেপস’ ছবিটিও একই রকম নজরদারি ক্যামেরা ও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে গল্প বলার পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল। তবে লুমেটের কাজের তুলনায় বেকমামবেটভের চলচ্চিত্রে দৃশ্যের বৈচিত্র্য ও প্রযুক্তিগত উপাদানের পরিমাণ বেশি, যা কখনো কখনো দর্শকের জন্য অতিরিক্ত ভিজ্যুয়াল চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এই ধরনের স্ক্রিন-ভিত্তিক বর্ণনা শৈলী বর্তমানে স্ক্রিন আসক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেকের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। ‘মার্সি’ তে ধারাবাহিকভাবে ক্যামেরা শট পরিবর্তন, ড্রোনের উড়ান, এবং স্মার্টফোনের রেকর্ডিং দেখা যায়, যা দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিরক্তিকর হতে পারে। তাই, যারা ডিজিটাল ডিটক্সের প্রয়োজন অনুভব করছেন, তাদের জন্য এই ছবিটি দেখার আগে একবার ভাবা উচিত।
সামগ্রিকভাবে, ‘মার্সি’ একটি আধুনিক থ্রিলার যা প্রযুক্তি ও ন্যায়বিচারের সংযোগকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে। যদিও স্ক্রিনলাইফ পদ্ধতি কিছু দর্শকের জন্য অতিরিক্ত হতে পারে, তবে প্রযুক্তি-নির্ভর গল্পের ভক্তদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা হতে পারে। ছবির মূল আকর্ষণ হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিচারকের অমায়িকতা এবং প্রধান চরিত্রের নির্দোষতা প্রমাণের জন্য তার সংগ্রাম, যা শেষ পর্যন্ত দর্শকের মনোযোগকে স্ক্রিনের দিকে টেনে রাখে।
‘মার্সি’ এর মুক্তির দিনটি নিকটবর্তী হওয়ায়, সিনেমা প্রেমীরা এই নতুন ধরনের থ্রিলারটি দেখার পরিকল্পনা করতে পারেন। তবে স্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে ইচ্ছুক হলে, ছবিটি দেখার আগে নিজের স্ক্রিন সময়ের সীমা নির্ধারণ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।



