হিলি সীমানা পারাপার ল্যান্ড পোর্টে ভারত থেকে চালের আমদানি ৫০ দিন স্থগিতের পর আজ পুনরায় চালু হয়েছে। এই পদক্ষেপটি দেশের চালের চাহিদা মেটাতে এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সকালেই ছয়টি ট্রাকের মাধ্যমে মোট ২৪৩ টন কাঁচা চাল পোর্টে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১৫৮ টন চাল ট্যাক্স হিসেবে ১.৯৬ লক্ষ টাকা অগ্রিম আয়কর সংগ্রহের পর মুক্তি পেয়েছে। অবশিষ্ট চাল পরবর্তী পর্যায়ে গুণমান যাচাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছে।
কাস্টমস ও এক্সাইজ বিভাগের হিলি ল্যান্ড পোর্টের রেভিনিউ অফিসার জানান, অগ্রিম ট্যাক্স সংগ্রহের মাধ্যমে সরকারী আয় বৃদ্ধি পাবে এবং একই সঙ্গে আমদানিকর্তাদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত হবে।
কোয়ারান্টাইন অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ১৮ জানুয়ারি অনুমোদন পাওয়ার পরই আমদানিকর্তারা চাল নিয়ে আসা শুরু করেছে। গুণমান পরীক্ষা সম্পন্ন হলে পণ্য মুক্তি পাবে, এটাই প্রক্রিয়ার মূল ধাপ।
বর্তমানে মোট ৪০টি আমদানিকর্তাকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যারা একত্রে ১৭,০০০ টন পর্যন্ত চাল আমদানি করতে পারবে। এই অনুমোদনটি বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্য হ্রাসে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডি.পি. এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি রিন্তু কামাল সরকার জানান, তাদের কোম্পানি প্রথম শিপমেন্টে দুইটি ট্রাকের মাধ্যমে ৭৭ টন কাঁচা চাল ‘সাম্পা কাটারি’ ব্র্যান্ডে পোর্টে পৌঁছে দিয়েছে। এই চালের গুণমান ও দাম স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করবে।
স্থানীয় বাজারে কাঁচা চালের দাম বর্তমানে প্রতি কিলোগ্রাম ৭০ থেকে ৭১ টাকা, যেখানে আমদানিকৃত চালের দাম ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা পর্যন্ত নেমে এসেছে। এই পার্থক্য ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য মূল্যচাপের সূচনা ঘটাতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, আমদানিকৃত চালের কম দাম স্থানীয় চালের বিক্রয় হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তবে একই সঙ্গে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়ে সামগ্রিক চাহিদা বাড়াতে পারে। সরকারী নীতি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে উভয় দিকই সমন্বিতভাবে উপকৃত হবে।
ট্যাক্স সংগ্রহের মাধ্যমে সরকারী রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে, যা পরবর্তীতে কৃষি সহায়তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ট্যাক্সের হার ও সংগ্রহ প্রক্রিয়া যদি অতিরিক্ত কঠোর হয়, তবে আমদানিকর্তাদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি হতে পারে।
গুণমান নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে, কাস্টমস ও কোয়ারান্টাইন বিভাগ একসাথে কাজ করে নিশ্চিত করছে যে আমদানিকৃত চাল দেশের মানদণ্ড পূরণ করে। এই প্রক্রিয়া যদি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, তবে বাজারে নিম্নমানের পণ্যের প্রবেশ রোধ হবে।
দীর্ঘমেয়াদে যদি অনুমোদিত আমদানিকর্তার সংখ্যা ও অনুমোদিত পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, তবে চালের সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে এবং মৌসুমী মূল্য ওঠানামা কমবে। তবে এই বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদনকারীর আয় হ্রাসের সম্ভাবনা বিবেচনা করে নীতি নির্ধারণে সমন্বয় প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, হিলি ল্যান্ড পোর্টে চালের আমদানি পুনরায় শুরু হওয়া দেশের চাল বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্য স্থিতিশীলতা আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে গুণমান নিয়ন্ত্রণ, ট্যাক্স নীতি এবং আমদানিকর্তা অনুমোদনের ভারসাম্য বজায় রেখে বাজারের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া হবে।



