যুক্তরাষ্ট্রের দপ্তর আগামী বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, নতুন সরকারকে সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান করবে বলে জানিয়েছে। এই বিবৃতি ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত হয় এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
দূতাবাসের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনের পর যে দল শাসন গ্রহণ করবে, তার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। এ ধরনের নীতি পূর্বে বহু দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রূপে দেখা যায়।
বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো—আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াত ইস্লাম—এখনো নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো চূড়ান্ত করেনি, তবে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই মন্তব্যের সঙ্গে এই বিষয়গুলোকে সমন্বয় করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়টি নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকি এবং সাইবার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা এই ক্ষেত্রগুলোতে প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সহায়তা প্রদান করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার মধ্যে রাজনৈতিক তীব্রতা বাড়লেও, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কোনো একক দলকে বাদ না দিয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবে। এভাবে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
শহরের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সমাবেশ এবং ক্যাম্পেইন র্যালি চলতে থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হচ্ছে। ঢাকায় শ্রীমতি শাহজালালের (রহ.) মাজারে জিয়ারত করার পর রাজনৈতিক কর্মীরা সমাবেশের আয়োজন করেছে, যা জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শাহজালালের মাজারে সমাবেশের সময় তরিক রহমানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তিনি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে বিএনপি-ভিত্তিক কিছু প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবরও উঠে এসেছে, যেখানে দশজনের বেশি আহত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং আহতদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
বৈদ্যুতিক সরবরাহের ঘাটতি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একত্রে দাবি জানাচ্ছে। নির্বাচনের আগে এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যু নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই সমন্বয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার হুমকির মোকাবিলায় সহায়তা করবে।
অধিকন্তু, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীও নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য পর্যবেক্ষণ দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমকে সমর্থন করতে পারে।
সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট অবস্থান যে, ফলাফল যাই হোক, নতুন সরকারকে সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে, তা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি স্থিতিশীলতা সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর কূটনৈতিক মিথস্ক্রিয়া এবং নীতি নির্ধারণে এই দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা পরবর্তী পর্যায়ে স্পষ্ট হবে।



