নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে সামাজিক মিডিয়ায় ২০১৬‑কে স্মরণ করার একটি প্রবল প্রবণতা দেখা গিয়েছে। ইনস্টাগ্রামে “add yours” স্টিকার দিয়ে ব্যবহারকারীদের ২০১৬‑এর ছবি শেয়ার করতে বলা হয়েছে, ফলে পাঁচ মিলিয়নেরও বেশি পোস্ট জমা হয়েছে। এই আন্দোলন অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ব্যবহারকারীরা পুরনো সঙ্গীত তালিকা ও ছবি পুনরায় প্রকাশ করে।
স্পটিফাইতে ২০১৬‑এর থিমযুক্ত প্লেলিস্টের সংখ্যা নতুন বছরের শুরুতে ৭৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কোম্পানিটি তার ইনস্টাগ্রাম বায়োতে “২০১৬‑কে আবার রোমান্টিকাইজ করছি” এমন একটি নোট যোগ করেছে, যা নস্টালজিক অনুভূতিকে আরও তীব্র করে। এই পরিসংখ্যানগুলো দেখায় যে, ডিজিটাল ব্যবহারকারীরা অতীতের নির্দিষ্ট বছরকে স্মরণে রাখার জন্য সক্রিয়ভাবে কন্টেন্ট তৈরি করছে।
২০১৬‑কে “শেষ ভালো বছর” বলে উল্লেখ করা হয়, কারণ তখন ইন্টারনেটের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে সরল ছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন প্রেসিডেন্ট না হওয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা কম ছিল, মাস্কের ধরণ (N‑95, KN‑95) সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জ্ঞান সীমিত ছিল, আর টুইটার এখনও তার মূল নামেই পরিচিত ছিল। এছাড়া, পোকেমন গো গ্রীষ্মের গেমটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, যা তরুণদের মনোযোগকে আকৃষ্ট করেছিল।
তবে সেই বছরটি শুধুমাত্র মজার মুহূর্তে সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০১৬‑এ ব্রেক্সিট ভোট, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের তীব্রতা, জিকা ভাইরাসের বিস্তার এবং পুলস নাইটক্লাব শুটিংয়ের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনাগুলো মানুষের মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছিল, যদিও নস্টালজিক স্মৃতি প্রায়শই সেগুলোকে উপেক্ষা করে।
একটি অনলাইন আলোচনায় দেখা যায়, কেউ মন্তব্য করেছেন যে ২০১৬‑এর জন্য দানবের সব শক্তি একত্রিত হয়েছে, আর অন্য কেউ যোগ করেছেন যে ২০১৭‑এর প্রথম দিনে দানবের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। এই ধরনের মন্তব্যগুলো ইন্টারনেটের হাস্যরসের স্বাদকে প্রকাশ করে, তবে একই সঙ্গে বছরের কঠিন বাস্তবতাকে অস্বীকার করে না।
সেই সময়ের ভয়াবহতা নিয়ে তুলনা করা হয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে কষ্টকর সময়ের সঙ্গে। এক কলামিস্ট ২০১৬‑কে ১৩৪৮ সালের ব্ল্যাক ডেথ এবং ১৯৪৩ সালের হলোকাস্টের সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্ন তুলেছেন, কতটা দুঃখজনক বছরটি ছিল। যদিও এই তুলনা কিছুটা অতিরঞ্জিত, তবু তা ২০১৬‑এর জটিলতা ও অশান্তিকে তুলে ধরে।
নতুন বছরের আগমনে নস্টালজিক প্রবণতা স্বাভাবিক, কারণ মানুষ অতীতের স্মৃতিকে পুনরায় বাঁচাতে চায়। ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট এবং অ্যাপল ফটোসের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের এক বছর আগে কী করছিলেন তা স্মরণ করিয়ে দেয়, যা ব্যবহারকারীর সম্পৃক্ততা বাড়ায়। এই ধরনের ফিচারগুলো ডিজিটাল মিডিয়ার ব্যবসায়িক কৌশলের অংশ।
এই বছর নস্টালজিক প্রবণতা পূর্বের তুলনায় ভিন্ন রূপ নেয়। ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র পুরনো ছবি শেয়ার নয়, বরং সঙ্গীত, ভিডিও এবং গেমের তালিকাও পুনরায় তৈরি করে। ফলে ইন্টারনেটের সামগ্রিক পরিবেশে অতীতের প্রতি একধরনের সম্মান ও পুনর্মূল্যায়ন দেখা যায়।
ইনস্টাগ্রামের “add yours” স্টিকারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ২০১৬‑এর স্মৃতি ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন সৃজনশীলতা প্রকাশ করে। কিছু ব্যবহারকারী পুরনো ফ্যাশন ও ট্রেন্ডকে পুনরায় জীবন্ত করে তোলেন, অন্যরা সেই সময়ের সামাজিক-রাজনৈতিক ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে পোস্ট করেন। এই বৈচিত্র্য নস্টালজিক প্রবণতাকে সমৃদ্ধ করে।
স্পটিফাইয়ের প্লেলিস্টের বিশাল বৃদ্ধি দেখায় যে সঙ্গীতও নস্টালজিক অনুভূতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যবহারকারীরা ২০১৬‑এর হিট গানগুলো পুনরায় শোনে, যা তাদের স্মৃতির সঙ্গে সংযুক্ত হয়। এই প্রবণতা সঙ্গীত স্ট্রিমিং পরিষেবার ব্যবহার বাড়ায় এবং শিল্পীদের জন্য অতিরিক্ত শোনার সময় তৈরি করে।
সামগ্রিকভাবে, ২০১৬‑কে স্মরণ করা একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক ঘটনা, যা প্রযুক্তি, মিডিয়া এবং মানবিক অনুভূতির সংযোগকে প্রকাশ করে। নস্টালজিক প্রবণতা কেবল অতীতের স্মৃতি নয়, বরং বর্তমানের ডিজিটাল সংস্কৃতির একটি অংশ, যা ব্যবহারকারীর অংশগ্রহণ ও সৃজনশীলতা বাড়ায়।
ভবিষ্যতে এই ধরনের নস্টালজিক চক্র পুনরাবৃত্তি হতে পারে, বিশেষ করে যখন নতুন বছর শুরু হয়। সামাজিক নেটওয়ার্কগুলো ব্যবহারকারীর স্মৃতি উত্সাহিত করতে নতুন ফিচার যোগ করতে পারে, এবং সঙ্গীত ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলোও একইভাবে ব্যবহারকারীর পুরনো কন্টেন্টের প্রতি আগ্রহকে কাজে লাগাবে। এভাবে নস্টালজিক প্রবণতা ডিজিটাল জীবনের একটি স্থায়ী অংশ হয়ে দাঁড়াবে।



