ট্রাইবেকা ফিল্মস, ট্রাইবেকা এন্টারপ্রাইজেস ও জায়ান্ট পিকচার্সের যৌথ বিতরণ লেবেল, জুলিয়া সুইনি অভিনীত অ্যান্ড্রোজিনাস স্যাটারডে নাইট লাইভ চরিত্র ‘প্যাট’ নিয়ে নির্মিত ডকুমেন্টারি ‘We Are Pat’ অধিগ্রহণ করেছে। এই চলচ্চিত্রটি ২০২৫ সালের ট্রাইবেকা ফেস্টিভ্যালে প্রিমিয়ার হয় এবং নতুন ডকুমেন্টারি পরিচালককে সম্বোধন করে বিশেষ জুরি উল্লেখ পায়।
ডকুমেন্টারির পরিচালনা রোয়ান হ্যাবার করেছেন, যিনি প্রথমবারের মতো ট্রাইবেকা ফেস্টিভ্যালে তার কাজ উপস্থাপন করে স্বীকৃতি অর্জন করেন। ট্রাইবেকা ফিল্মসের মাধ্যমে এই চলচ্চিত্রটি জুন মাসে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা দর্শকদের বাড়িতে সহজে উপভোগের সুযোগ দেবে।
‘We Are Pat’ মূলত ‘প্যাট’ চরিত্রের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে, যা প্রথমবার ১৯৯০-এর দশকে স্যাটারডে নাইট লাইভে দেখা যায়। জুলিয়া সুইনি, যিনি এই চরিত্রের সৃষ্টিকর্তা, তার সঙ্গে হ্যাবার এবং বিভিন্ন কুইয়ার ও ট্রান্স কমেডিয়ান ও লেখকরা এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছেন।
চলচ্চিত্রে হ্যাবার এবং অংশগ্রহণকারীরা ‘প্যাট’কে শুধুমাত্র হাস্যকর চরিত্র হিসেবে নয়, বরং লিঙ্গ পরিচয়ের বহুমাত্রিকতা ও স্ব-অন্বেষণের প্রতীক হিসেবে পুনর্গঠন করার চেষ্টা করেন। এভাবে ৩৫ বছর পরেও এই চরিত্রের প্রাসঙ্গিকতা ও প্রভাব পুনরায় আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়।
ডকুমেন্টারিতে কেভিন নিলন, মলি কেয়ারনি, অ্যাবি ম্যাকএনি, মুরে হিল, নরি রেড, রোবিন ট্রান, স্যাব্রিনা উ এবং রোজ হের্নান্দেজসহ আরও বেশ কয়েকজন পরিচিত কমেডিয়ান ও লেখক উপস্থিত আছেন। তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিকোণ থেকে ‘প্যাট’ চরিত্রের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অর্থ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল ৯০-এর দশকের জনপ্রিয় সংস্কৃতির এই আইকনকে বিদ্রূপের বস্তু থেকে মুক্ত করে, একটি ক্ষমতায়িত ও আত্মবিশ্বাসী চিত্রে রূপান্তরিত করা। এতে লিঙ্গের সীমা ভাঙা, আত্ম-গ্রহণযোগ্যতা এবং সমতা প্রচারের বার্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রোয়ান হ্যাবার চলচ্চিত্রের প্রকাশনা সংক্রান্ত বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, এই কাজটি এক ধরনের আয়না, যেখানে সমাজের স্মৃতি, অস্বস্তি, ভালোবাসা এবং জটিল সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলোকে যত্নের সঙ্গে পুনর্গঠন করা হয়। তিনি বলেন, ‘প্যাট’কে পুনরায় দেখা মানে আমাদের নিজস্ব পরিচয়ের প্রতিফলনকে নতুন দৃষ্টিতে গ্রহণ করা।
জুলিয়া সুইনি তার অংশগ্রহণের পেছনের প্রেরণা ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘প্যাট’ চরিত্রের সঙ্গে তার সম্পর্কের গভীরতা এই ডকুমেন্টারির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্পটি শুরুতে সমালোচনামূলক হতে পারে বলে উদ্বিগ্ন ছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত তা হাস্যরস ও গম্ভীরতা উভয়ই সমন্বিত একটি সমৃদ্ধ কাজ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।
সুইনি আরও জানান, হ্যাবারের ‘প্যাট’ নিয়ে অবিচল আগ্রহ ছাড়া তিনি কখনোই এই চরিত্রের সঙ্গে নিজের সংযোগকে এতটা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে পারতেন না। ডকুমেন্টারিটি তার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গভীর, সমৃদ্ধ এবং প্ররোচনামূলক হয়েছে, পাশাপাশি হাস্যরসের ছোঁয়াও রয়েছে।
‘We Are Pat’ ডকুমেন্টারিটি কেবল একটি স্মৃতিচারণা নয়, বরং লিঙ্গ পরিচয়ের বহুমাত্রিকতা ও সমতার আলোকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে। এই কাজটি সমসাময়িক দর্শকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক আলোচনার সূচনা হতে পারে।
ডকুমেন্টারির ডিজিটাল রিলিজের মাধ্যমে দর্শকরা ঘরে বসে এই গল্পটি দেখতে পারবেন, যা ট্রাইবেকা ফিল্মসের স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে জুন মাসে উপলব্ধ হবে। এই রিলিজটি সমসাময়িক লিঙ্গ ও পরিচয় নিয়ে আলোচনাকে আরও বিস্তৃত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের সাফল্য এবং ট্রাইবেকা ফেস্টিভ্যালে প্রাপ্ত স্বীকৃতি ‘We Are Pat’কে আন্তর্জাতিক ডকুমেন্টারি ক্ষেত্রের একটি উল্লেখযোগ্য কাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিষয়বস্তু আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছাবে বলে শিল্পের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা দেখা যায়।
সর্বোপরি, ‘We Are Pat’ ডকুমেন্টারি লিঙ্গের সীমানা ভাঙা, স্ব-অন্বেষণ এবং সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা, যা ট্রাইবেকা ফিল্মসের মাধ্যমে বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছাবে।



