বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুধবার জানিয়েছেন, আইসিসি যদি তাদের ম্যাচের স্থান পরিবর্তনের অনুমতি দেয়, তবে দলটি এখনও টুইটি২০ বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে। বর্তমানে আইসিসি ভারতের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচগুলোকে বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে দিতে অস্বীকার করেছে, যেখানে মাত্র দুইটি সদস্যই বাংলাদেশের অনুরোধের পক্ষে ভোট দিয়েছে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) শেষ মুহূর্তে সমর্থন জানানো সত্ত্বেও আইসিসি কোনো নরম দৃষ্টিভঙ্গি দেখায়নি। আইসিসি একটি চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে, যা মূলত একটি চূড়ান্ত নোটিশের মতো কাজ করেছে। বাংলাদেশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে, তারা কি ফেব্রুয়ারি ৭ থেকে মার্চ ৮ পর্যন্ত ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে, নাকি আইসিসি তাদের বদলে অন্য কোনো দেশকে আমন্ত্রণ জানাবে।
যদি বাংলাদেশ সময়সীমা মেনে না চলে, তবে স্কটল্যান্ডকে গ্রুপ সিতে বাংলাদেশের জায়গা নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমিনুলের মতে, খেলোয়াড় ও সরকার উভয়ই বিশ্বকাপে অংশ নিতে চায়, তবে তারা ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই তারা ম্যাচগুলোকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করার অনুরোধ করেছে।
বিসিবি শ্রীলঙ্কার সঙ্গে একটি বিনিময় প্রস্তাবও রেখেছিল, যেখানে আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে দল পরিবর্তন করা সহজ পথ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে শ্রীলঙ্কা দলটি তাদের গ্রুপে নতুন কোনো দল যুক্ত করতে না চাওয়ায় এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা হয়। ভোটের পর, আমিনুল সরকারকে শেষবারের মতো এই বিষয়টি জানাতে চান, এবং আইসিসি তাকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।
বিসিবি সভাপতি উল্লেখ করেছেন, “আমি আইসিসি‑এর কাছ থেকে কোনো অলৌকিক সমাধানের আশায় আছি। কে না চায় বিশ্বকাপে অংশ নিতে?” তিনি আরও যোগ করেন, “আইসিসি‑এর প্রেস রিলিজের পর আমরা মন্তব্য করতে পারি না। সভা এক ঘণ্টা ত্রিশ মিনিট চলেছে, আমরা আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছি, ভোটে অংশ নিতে চাইনি, তাই আমরা পেছনে সরে গেছি।”
আমিনুলের মতে, বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের ইচ্ছা স্পষ্ট: তারা বিশ্বকাপে খেলতে চায়। সরকারও একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তারা ভারতের ভেতরে ম্যাচ খেলা থেকে বিরত থাকতে চায়। তাই শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য পরিবর্তনের দরখাস্ত করা হয়।
আইসিসি এই মুহূর্তে শেষ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। যদি বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর না দেয়, তবে টুর্নামেন্টের সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের জন্য আইসিসি দ্রুত বিকল্প দেশ খুঁজে বের করবে। এই পরিস্থিতি বিশ্বকাপের গোষ্ঠী কাঠামোতে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত গ্রুপ সিতে বাংলাদেশের জায়গা নিতে পারে স্কটল্যান্ড।
বিসিবি এখন সরকারের সঙ্গে পরামর্শে ব্যস্ত, যাতে দেশের নিরাপত্তা ও ক্রীড়া স্বার্থ উভয়ই রক্ষা করা যায়। সরকারী কর্মকর্তারা এই বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করছেন এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও টিকিট বিক্রয় ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, তাই আইসিসি ও বাংলাদেশ উভয়েরই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা ও অন্যান্য সম্ভাব্য বিকল্প দেশগুলোও এই প্রস্তাবের ওপর তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে।
এই সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যান্য সদস্য দেশগুলোও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আইসিসি যে কোনো সিদ্ধান্ত নিলেও, তা টুর্নামেন্টের সামগ্রিক পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলবে।
বিসিবি ও আইসিসি উভয়েরই এই বিষয়টি সমাধান করতে হবে, যাতে বিশ্বকাপের শিডিউল ব্যাহত না হয় এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। শেষ পর্যন্ত, খেলোয়াড়, সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রমের মূল চাবিকাঠি হবে।
বাংলাদেশি ভক্তরা বিশ্বকাপের জন্য উন্মুখ, এবং তারা আশা করছেন যে শীঘ্রই স্পষ্ট উত্তর পাবেন, যাতে দলটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে পারে।



