ঢাকা শহরের আদালতে আজ ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহনাজ রাহমান, সিইও সিমিন রাহমান এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত তিনজনকে এক মামলা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে আরেকটি মামলায় পাঁচজনকে জামিন প্রদান করা হয়েছে।
মুক্তি পাওয়া মামলাটি ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ গুলশান থানা থেকে শিমিনের ছোট বোন শাহজরেহ হুকের দ্বারা দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগের মূল বিষয় ছিল পরিবারিক বিরোধে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে সম্পত্তি হস্তান্তর করা।
মুক্তি পাওয়া চারজনের মধ্যে রয়েছে শাহনাজ রাহমান, সিমিন রাহমান, সিমিনের পুত্র জারায়িফ আয়াত হোসেন এবং ট্রান্সকম গ্রুপের দুইজন পরিচালক—মো. কামরুল হাসান ও ফখরুজ্জামান ভূইয়া।
মামলাটি গুলশান থানায় দায়ের হওয়ার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) থেকে তদন্তকারী ইনস্পেক্টর মো. তরিকুল ইসলাম চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। প্রতিবেদনটি আদালতের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহের কাছে উপস্থাপন করা হয়।
অভিযোগকারী শাহজরেহ হুক দাবি করেন যে তার, তার পিতা লতিফুর রাহমান এবং ভাই আরশাদ ওয়ালিয়ুর রাহমানের স্বাক্ষর একটি চুক্তিপত্রে জালিয়াতি করা হয়েছে। ঐ চুক্তিপত্রটি লতিফুর রাহমানের মৃত্যুর পর তার শেয়ার এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয় সমাধানের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) দ্বারা পরিচালিত ফরেনসিক পরীক্ষায় শাহজরেহ, লতিফুর ও আরশাদের স্বাক্ষর প্রকৃত বলে নিশ্চিত করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে কোনো জালিয়াতির চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
এই ফলাফলের ভিত্তিতে তদন্তকারী অফিসার চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করেন এবং মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না থাকায় তাদের মুক্তি দেওয়ার সুপারিশ করেন। আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট চারজনকে মামলায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করে।
সিমিনের আইনজীবী মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া জানান, অভিযোগকারী চুক্তিপত্রের অধীনে সমস্ত সম্পত্তি পেয়েছেন এবং তা আয়কর রিটার্নে ঘোষণা করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুই বছর পর সিমিনের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি এই মামলাটি দায়ের করেছিল।
অন্যদিকে, একই সময়ে ঢাকার এক আদালতে পাঁচজনকে জামিন প্রদান করা হয়। জামিনের মধ্যে রয়েছে শাহনাজ রাহমান, সিমিন রাহমান এবং ত্রয়ী অন্যান্য ব্যক্তি। আদালত তাদেরকে নির্ধারিত শর্তে মুক্তি দেয়, ফলে তারা বিচার চলাকালীন মুক্ত অবস্থায় থাকবে।
জামিন প্রদানকারী আদালত মামলার মূল বিষয়গুলো পুনরায় পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় হলে অতিরিক্ত তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে। তবে বর্তমানে উভয় মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক দায় আরোপ করা হয়নি।
এই সিদ্ধান্তের পর, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আইনগত প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। যদি কোনো পক্ষের আপিল থাকে, তা পরবর্তী আদালতে শোনা হবে। বর্তমানে উভয় মামলায় কোনো নতুন অভিযোগ বা অতিরিক্ত তদন্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।



