বাংলাদেশের ক্যাবিনেট বিভাগে অনুষ্ঠিত সরকারের পরামর্শদাতা পরিষদের অধিবেশনের পরে অর্থ উপদেষ্টা সালেহুদ্দিন আহমেদ হাদির পরিবারকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে অতিরিক্ত এক কোটি টাকা প্রদান করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। হাদির ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে নিহত হয়েছেন; তার পরিবারকে এখন মোট দুই কোটি টাকা সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের আগে সরকার হাদির পরিবারকে ঢাকার একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ করে থাকে। সেই বরাদ্দের ব্যবহার এখনও সম্পূর্ণ না হলেও, অতিরিক্ত এক কোটি টাকা এখন জীবিকা সমর্থনের জন্য আলাদা করে নির্ধারিত হয়েছে।
সালেহুদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এক কোটি টাকা ফ্ল্যাট বা বাড়ি ক্রয়ের জন্য সরবরাহ করা হবে, তবে পুরো পরিমাণের প্রয়োজন নাও হতে পারে। আরেকটি এক কোটি টাকা প্রধান উপদেষ্টা অফিস থেকে পরিবারকে জীবিকা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আলাদা তহবিল হিসেবে প্রদান করা হবে।
ফ্ল্যাটটি সরকারী কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন ‘ডোয়েল টাওয়ার’, লালমাটিয়া, ঢাকায় অবস্থিত। এই সম্পত্তি সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত, এবং হাদির পরিবারের জন্য বাড়ি নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
হাদির ভাই সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম শহরে বাংলাদেশ সহায়ক উচ্চ কমিশনে সেকেন্ডারী পদে নিয়োগ পেয়েছেন। এই পদোন্নতি পরিবারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি স্থিতিশীল অবস্থান প্রদান করবে বলে ধারণা করা হয়।
অধিবেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের পর উপদেষ্টা আহমেদ স্পষ্টভাবে দুইটি পৃথক বরাদ্দের কথা উল্লেখ করেন, যা হাদির পরিবারের আর্থিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, এই তহবিলের মাধ্যমে পরিবারকে বাড়ি কেনা এবং দৈনন্দিন জীবনের খরচ মেটাতে সাহায্য করা হবে।
সরকারের এই পদক্ষেপকে কিছু বিশ্লেষকরা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন; এটি রাজনৈতিক কর্মী ও তাদের পরিবারের প্রতি সরকারের সমর্থন প্রকাশের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে কেবলমাত্র আর্থিক সহায়তার বিষয়টি তুলে ধরেছে।
মোট দুই কোটি টাকা এখন হাদির পরিবারকে সরবরাহ করা হবে; প্রথম এক কোটি টাকা ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য এবং দ্বিতীয় এক কোটি টাকা জীবিকা সমর্থনের জন্য। উভয় তহবিলই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রধান উপদেষ্টা অফিসের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে।
এই আর্থিক সহায়তা পরিবারকে হাদির মৃত্যুর পর আর্থিক দিক থেকে স্বস্তি প্রদান করবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, তহবিলের বিতরণ ও ফ্ল্যাটের ক্রয় প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হবে।
পরবর্তী ধাপে, হাদির পরিবারকে তহবিলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, ফ্ল্যাটের অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পন্ন করা এবং জীবিকা সহায়তার জন্য নির্ধারিত তহবিলের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা হবে। সরকারী দায়িত্বে থাকা বিভাগগুলো এই প্রক্রিয়ার তদারকি করবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।



