23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানইন্দোনেশিয়ার মুনা দ্বীপে ৬৭,৮০০ বছর পুরনো হাতের স্টেন্সিল, সর্বপ্রাচীন শিলা শিল্পের প্রমাণ

ইন্দোনেশিয়ার মুনা দ্বীপে ৬৭,৮০০ বছর পুরনো হাতের স্টেন্সিল, সর্বপ্রাচীন শিলা শিল্পের প্রমাণ

ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের নিকটবর্তী মুনা দ্বীপের একটি গুহার প্রাচীরের ওপর প্রায় ৬৭,৮০০ বছর আগে তৈরি একটি হাতের ছাপ এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে পুরনো শিলা শিল্প হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। গবেষকরা গুহার দেয়ালে হাতটি রেখে, মুখে ভর্তি রঙের গুঁড়ো ছিটিয়ে এই স্টেন্সিল তৈরি করা হয়েছে বলে অনুমান করেন। এই আবিষ্কারটি মানবজাতির প্রাচীন শিল্পের সূচনা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে।

প্রত্নতত্ত্ববিদ আদাম ব্রাম এবং তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, এই স্টেন্সিলের পাশাপাশি গুহার দেয়ালে পশু ও অন্যান্য নকশার শত শত চিত্রও পাওয়া যায়, যা মূলত অখর এবং কাঠকয়লা দিয়ে আঁকা হয়েছে। গুহা এবং তার আশেপাশের দ্বীপগুলোতে এই ধরনের শিল্পের স্তরগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জমা হওয়া ক্যালসিয়াম কার্বনেটের পাতলা স্তরে ইউরেনিয়াম আইসোটোপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্রাম উল্লেখ করেন, সুলাওয়েসিতে প্রায় ৬৫,০০০ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় মানব বসতি গড়ে তোলা আধুনিক মানুষদের একই বিস্তৃত জনসংখ্যা এই প্রাচীন শিল্প তৈরি করেছিল। এই তত্ত্বের ভিত্তি হল, প্রাচীন হোমো স্যাপিয়েন্স নৌকা ব্যবহার করে দ্বীপপুঞ্জে ভ্রমণ করে সাহুল (প্রাচীন নিউ গিনি ও অস্ট্রেলিয়া যুক্ত ভূমি) পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

এ পর্যন্ত ইউরোপে ন্যান্ডারথালদের তৈরি করা প্রাচীন গুহা শিল্পকে সর্বপ্রাচীন বলে ধরা হতো, যার বয়স প্রায় ৬৫,০০০ বছর। তবে মুনা দ্বীপের এই স্টেন্সিলের বয়স তা থেকে বেশি, ফলে মানবের শিলা শিল্পের উৎপত্তি সম্পর্কে পূর্বের ধারণা পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

সুলাওয়েসি দ্বীপের গুহাগুলোতে পূর্বে ২০১৯ সালে ৪৪,০০০ বছর পুরনো একটি চিত্র পাওয়া গিয়েছিল, যা সম্ভবত প্রথম কাহিনীচিত্রের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত। ২০২১ সালে ৪৫,০০০ বছর পুরনো শূকর চিত্রও আবিষ্কৃত হয়। এই ধারাবাহিক আবিষ্কারগুলো দেখায় যে, সুলাওয়েসিতে শিল্পের ঐতিহ্য বহু দশক ধরে বিকশিত হয়েছে।

নতুন গবেষণায় মোট ১১টি গুহা চিত্রের বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সুলাওয়েসির দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত উপদ্বীপগুলোর গুহা শিল্পের বিস্তৃতি ও সময়সীমা স্পষ্ট করে। স্টেন্সিলটি এখনো খনিজের স্তর ও পরবর্তী চিত্রের নিচে লুকিয়ে রয়েছে, তবে আধুনিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি দিয়ে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

এই আবিষ্কার মানবজাতির প্রাচীন শিল্পের উৎপত্তি ও বিস্তার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে। বিশেষ করে, সুলাওয়েসি অঞ্চলে মানবের উপস্থিতি এবং তাদের সাংস্কৃতিক প্রকাশের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে এই হাতের স্টেন্সিলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মতে, ভবিষ্যতে আরও গভীর গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুহা শিল্পের আরও পুরনো নিদর্শন উন্মোচিত হতে পারে। এই ধরনের গবেষণা আমাদের মানব ইতিহাসের মূলধারাকে পুনর্গঠন করতে সহায়তা করবে।

আপনার কি মনে হয়, মানবের প্রাচীন শিল্পের এই নতুন দৃষ্টিকোণ আমাদের বর্তমান সংস্কৃতির সঙ্গে কীভাবে সংযুক্ত হতে পারে?

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments