যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত বুধবার ঢাকার ইএমকে সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সভায় চীনের সঙ্গে অতিরিক্ত যুক্ততার সম্ভাব্য ঝুঁকি ও দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়গুলো তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও শীঘ্রই গঠিত নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে স্পষ্টভাবে আলোচনা করবেন।
সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টেনসেন গত বছর অক্টোবর মাসে মার্কিন সিনেটের শোনানিতে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি যুক্তি দেন, বাংলাদেশকে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝখানে না রেখে নিরাপত্তা‑সংক্রান্ত সহযোগিতা শক্তিশালী করা দরকার।
রাষ্ট্রদূত বলেন, নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশ্নগুলো তার জন্য বিশেষ গুরুত্বের। ওয়াশিংটনে তিনি জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন এবং বাংলাদেশে বহু বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই পটভূমি তাকে দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের গভীরতা বুঝতে সাহায্য করে।
ক্রিস্টেনসেনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে ইতিমধ্যে শক্তিশালী সামরিক অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে এবং তা ক্রমশ দৃঢ় হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর সঙ্গে সমুদ্র নিরাপত্তা, সেনাবাহিনীর সঙ্গে অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং বিমানবাহিনীর সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে।
গত এক বছরে দুই দেশ একাধিক বড় আকারের সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছে। নৌবাহিনীর জন্য ‘টাইগার শার্ক’ মহড়া, যা সমুদ্র নিরাপত্তা ও যৌথ অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি করে, উল্লেখযোগ্য।
সেনাবাহিনীর সঙ্গে ‘টাইগার লাইটনিং’ মহড়া শান্তি রক্ষা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং চিকিৎসা‑সেবা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়। এই মহড়া বাংলাদেশি সৈন্যদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদান করে।
অধিকন্তু, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সামরিক প্রশিক্ষণ, মহড়া এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। ক্রিস্টেনসেন জোর দেন, এই সহযোগিতা কেবল দু’দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, বরং অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকেও সমর্থন করে।
চীনের সঙ্গে যুক্ততার ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশকে কোনো একক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বহুমুখী কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করা উচিত। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ক্রিস্টেনসেনের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতি বাংলাদেশকে স্বতন্ত্রভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে, একই সঙ্গে চীনের প্রভাবের ভারসাম্য রক্ষা করবে। তিনি এই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পথচলা পর্যবেক্ষণ করবেন।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সহযোগিতা শুধুমাত্র সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং কৌশলগত পরামর্শের মাধ্যমে বিস্তৃত। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়ন করতে পারে।
শেষে ক্রিস্টেনসেন উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ উভয়ই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নিরাপত্তা‑সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে ইচ্ছুক। তিনি আশাবাদী যে, ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত মহড়া ও প্রশিক্ষণ আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।



