বিএনপি চেয়ারপার্সন তারিক রহমান সিলেট শহরে অবতরণ করে ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন। তিনি সন্ধ্যা আটটা চার মিনিটে ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং একই রাতে পার্টির শুরুর অনুষ্ঠান চালু হয়।
ঢাকা থেকে প্রায় সাতটা বিশ মিনিটে প্রস্থান করা বাংলাদেশ বিমানের মাধ্যমে তারিক রহমান এবং স্ত্রী জুবাইদা রহমান সিলেটের পথে রওনা হন। উভয়ই বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করার পর সরাসরি শহরের দুই পবিত্র মাজারের দিকে অগ্রসর হন।
প্রথম গন্তব্য ছিল হযরত শাহজালাল (রাঃ) ও হযরত শাহ পারান (রাঃ) মাজার, যেখানে তিনি এবং তার পরিবার মাজারের পবিত্রতা উপভোগ করেন। এই ভ্রমণকে পার্টির নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সূচনাবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তারিকের সঙ্গে ১৪ জনের একটি দল রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য নাজরুল ইসলাম খান, ব্যক্তিগত সহকারী আবদুস সাত্তার, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ.কে.এম শামসুল আলম এবং মিডিয়া সেল সদস্য অতিকুর রহমান রুমান।
দলটি তারিককে ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটস্থ গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসর্টে অবস্থান করতে জানায়। হোটেলটি শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং পার্টির কর্মসূচি সমন্বয়ের জন্য সুবিধাজনক বলে বিবেচিত।
রাতের পরের দিকে তিনি তার শাশুড়ির বাড়ি, ডকসিন সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে যান। এখানে পরিবারিক পরিবেশে কিছু সময় কাটিয়ে তিনি পরবর্তী দিনের প্রস্তুতি নেন।
পরের দিন সকাল এগারোটা টায় তারিক রহমান সিলেট গভার্নমেন্ট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে একটি জনসমাবেশে ভাষণ দেন। এই সমাবেশে পার্টির কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত থাকবেন।
দুপুর একটায় তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর‑আইনপুর প্লেগ্রাউন্ডে একটি র্যালি পরিচালনা করেন। র্যালিতে পার্টির নীতি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হবে।
দুপুর দুইটা ত্রিশ মিনিটে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নতুন উপজেলা পরিষদ মাঠে আরেকটি র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। এই র্যালি পার্টির নতুন কৌশল ও ভোটার সংযোগের অংশ হিসেবে পরিকল্পিত।
বিকাল চারটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সারাইল উপজেলায় র্যালি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। র্যালির মাধ্যমে পার্টি তার উপস্থিতি দৃঢ় করতে চায়।
সন্ধ্যা পাঁচটায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়ামে আরেকটি র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। এই র্যালি পার্টির নির্বাচনী মঞ্চকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
রাত সাতটায় নারসিংদির পৌর পার্কের কাছাকাছি একটি র্যালি আয়োজন করা হবে, যেখানে স্থানীয় সমর্থক ও স্বেচ্ছাসেবকরা অংশ নেবেন।
এরপর রাত আটটায় আরাইহাজারের গৌসিয়া এলাকায় এবং রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ধারাবাহিক র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। এই র্যালিগুলো পার্টির বিস্তৃত ভৌগোলিক উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।
সকল কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তারিক রহমান রাত দশটায় ঢাকার গুলশান বাড়িতে ফিরে আসেন। তারিকের এই দীর্ঘদিনের প্রথম সিলেট সফর পার্টির নির্বাচনী কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
বিএনপি-র বিরোধী দল, আওয়ামী লীগ, এই সফরকে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, সিলেটের এই ব্যাপক র্যালি সিরিজ পার্টির ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং নির্বাচনী গতি বাড়াতে সহায়তা করবে।



