ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত আজ ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. নাহারুল ইসলাম মল্লা এবং চারজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে জব্দি ওয়ারেন্ট জারি করার নির্দেশ দেয়। মামলায় জড়িত অন্য তিনজন হলেন ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর জিন্নিয়া তানজিনা হুক, সেন্ট্রাল সাউথ রিজিয়নের এরিয়া ম্যানেজার কায়সার মাহমুদ চৌধুরী, ওয়ারি এলাকার সিনিয়র এরিয়া ম্যানেজার এম শোয়েব কামাল এবং সেন্ট্রাল সাউথ ক্লাস্টারের ক্লাস্টার হেড সৈয়দ জিকরুল বিন জমির।
ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদি হাসান মামলার সংযুক্তি, পুলিশ রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি পর্যালোচনা করে এই আদেশ দেন। আদালতের সহকারী শিশির হালদার জানান, বিচারক জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জব্দি ওয়ারেন্ট জারি করার আগে তদন্তের সব দিক বিশ্লেষণ করেছেন।
প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সিআইডি’র সাব-ইনস্পেক্টর তরিকুল হক, যিনি ৫ জানুয়ারি আদালতে একটি বিশদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে পাঁচজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
মামলাটি মূলত ৭ আগস্ট গত বছর স্যালাউদ্দিন ফেরদৌস, যিনি অগ্রাণি গ্রুপ অফ কোম্পানিজের কমার্শিয়াল এক্সিকিউটিভ, তার পক্ষ থেকে দায়ের করা হয়। তিনি ইউনিলিভার বাংলাদেশ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সরবরাহের অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
শিকায়ের কোম্পানি ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইউনিলিভার বাংলাদেশের পণ্য বিতরণকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। সর্বশেষ বিতরণ চুক্তি ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে নবায়ন করা হয়। এই চুক্তির আওতায় শিকায়ের কোম্পানি বহু বছর ধরে ইউনিলিভার পণ্য বিক্রি করে আসছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, জানুয়ারি ২০২০ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত ইউনিলিভার বাংলাদেশ থেকে মোট ৩.৭৫ কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং ত্রুটিপূর্ণ পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে। এই পণ্যগুলো পরে শিকায়ের কোম্পানির কাছে ফেরত দেওয়া হয়।
ফেরতপ্রাপ্ত পণ্যগুলোর পরিবর্তে নতুন পণ্য সরবরাহ বা অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য শিকায়ের কোম্পানি বারবার অনুরোধ জানায়। তবে অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ইউনিলিভার কর্মকর্তারা এই দাবিগুলো পূরণে ব্যর্থ হন এবং কোনো ক্ষতিপূরণ প্রদান করেননি।
অতিরিক্তভাবে, শিকায়ের কোম্পানি অভিযোগ করে যে, ইউনিলিভার কর্মকর্তাদের পরামর্শে অপ্রয়োজনীয় ডেলিভারি রিকশা ভ্যান কেনা হয়, যার ফলে ১.৬৭ কোটি টাকার অতিরিক্ত ক্ষতি হয়। এই রিকশা ভ্যানগুলো মূল ব্যবসায়িক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও উল্লেখ আছে যে, ইউনিলিভার কিছু পণ্য ক্রেডিট ভিত্তিতে বিভিন্ন বাজারের গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা হয়। ফলে শিকায়ের কোম্পানির কাছে ৩.১১ কোটি টাকার বকেয়া পাওনা রয়ে যায়। এই বকেয়া অর্থের পুনরুদ্ধার না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতি বৃদ্ধি পায়।
মোট দাবি করা ক্ষতির পরিমাণ ৮.৫৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে পণ্য ক্ষতি, রিকশা ভ্যানের অতিরিক্ত ব্যয় এবং বকেয়া পাওনা অন্তর্ভুক্ত। শিকায়ের কোম্পানি এই সব ক্ষতির জন্য ইউনিলিভারকে দায়ী করে আদালতে সমাধান চায়।
ইউনিলিভার বাংলাদেশ মামলার বিষয়ে মন্তব্য করে জানায় যে, তারা বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে। তবে তারা কোনো মন্তব্যে নির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করেনি।
জব্দি ওয়ারেন্ট জারি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন আদালতে হাজির হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদি তারা উপস্থিত না হন, তবে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারে। মামলাটি পরবর্তী শুনানিতে কীভাবে অগ্রসর হবে, তা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।



