28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসামাজিক প্রতিরোধ কমিটি ভোটে প্রান্তিক নারী-পুরুষের নিরাপত্তা দাবি করে

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি ভোটে প্রান্তিক নারী-পুরুষের নিরাপত্তা দাবি করে

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি দেশের সকল নাগরিকের স্বেচ্ছা ও সুষ্ঠু ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে প্রান্তিক নারী ও পুরুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের কাছে একটি স্মারকলিপি উপস্থাপন করেছে। এই পদক্ষেপটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে, যেখানে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটদান নির্ধারিত।

কমিটির মুখপাত্র, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেমের মতে, ভোটের মাধ্যমে একটি সমতাভিত্তিক, প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় এবং পরবর্তী সময়ে কোনো প্রান্তিক গোষ্ঠীর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে না পড়ে তা নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রার্থীদের প্রচার কার্যক্রম বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়ায়, কমিটি দ্রুতই তাদের দাবিগুলো নির্বাচন কমিশনের সামনে তুলে ধরেছে। এতে নির্বাচনের পূর্বে, চলাকালীন এবং পরে নারী, সংখ্যালঘু ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীর সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে।

কমিটির প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, ভোটারদের স্বাধীনভাবে ও নির্ভয়ে ভোট দিতে পারার জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা। এর জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সব ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তদারকি ও সমন্বয় দাবি করা হয়েছে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের প্রতি হয়রানি, বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও সহিংস আচরণ রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিটি জোর দিয়ে বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের হেট স্পিচ বা হুমকি সহ্য করা হবে না।

নির্বাচনী ব্যয়ের অতিরিক্ততা রোধে ন্যূনতম ব্যয় নির্ধারণ এবং তার কঠোর তদারকি করার প্রস্তাবও স্মারকলিপিতে অন্তর্ভুক্ত। কমিটি দাবি করে, ব্যয় সংক্রান্ত স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীসহ সকল নারী প্রার্থীর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে। এতে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, হুমকি ও সহিংসতার সম্ভাবনা কমানো অন্তর্ভুক্ত।

বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী ও অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতে, তাদের সুবিধাজনক স্থানে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কমিটি উল্লেখ করে, দূরত্ব বা অপ্রতুল সুবিধা ভোটারদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে না।

জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন পরিচালনা করা প্রয়োজন। এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে সকল ধরণের সহায়তা প্রদান করতে হবে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় উপাদানের ব্যবহার সীমাবদ্ধ করারও দাবি করা হয়েছে, যাতে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং ভোটারদের সিদ্ধান্তে কোনো ধর্মীয় চাপ না থাকে।

কমিটির এই দাবিগুলো নির্বাচন কমিশনের নিকট উপস্থাপনের পর, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা দেখা বাকি। যদি প্রস্তাবিত ব্যবস্থা কার্যকর হয়, তবে প্রান্তিক গোষ্ঠীর ভোটগ্রহণে নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পাবে, যা সমগ্র দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।

ভবিষ্যতে এই ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবি নির্বাচনী নীতিতে অন্তর্ভুক্ত হলে, ভোটারদের অংশগ্রহণের হার বাড়তে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে আরও বৈধতা প্রদান করবে। সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি আশা করে, তাদের প্রস্তাবিত ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ ও স্বচ্ছ ভোটদান নিশ্চিত হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments