ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি—যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে বলে আজ মিডিয়ার সঙ্গে মতবিনিময় শেষে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের জনগণের সার্বভৌম অধিকার এবং কোনো বহিরাগত দেশের হস্তক্ষেপের বিষয় নয়।
ক্রিস্টেনসন ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে এসে দূতীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইএমকে সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দূত উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য, ব্যবসা এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বহু সম্ভাব্য সহযোগিতা ক্ষেত্র রয়েছে। তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রগুলোতে উভয় পক্ষের পারস্পরিক স্বার্থ ও লক্ষ্য সমন্বয় করা সম্ভব এবং এ ধরনের সমন্বয় উভয় দেশের উন্নয়নে সহায়ক হবে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন ফলাফল যাই হোক না কেন, তা বাংলাদেশের জনগণের নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের বিষয় নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের মত প্রকাশ করে এবং এই প্রক্রিয়াকে সম্মান করা আন্তর্জাতিক নীতির মৌলিক নীতি।
দূত আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নীতি সব সময় সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখার ওপর ভিত্তি করে। তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারী ও বিরোধী দলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এবং এই ঐতিহ্য অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন নিয়ে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, বিশেষ করে আগস্ট ২০২৪ থেকে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ক্রিস্টেনসন বলেন, এই ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নতি দেখা যাবে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সমন্বয়কে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, উভয় দেশই সন্ত্রাসবিরোধী, সাইবার নিরাপত্তা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক। এই দিকগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য নীতি, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হবে।
শেষে ক্রিস্টেনসন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যিনি তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি আশাবাদী যে, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে উভয় দেশই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রাখবে এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবে।



