28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি ইসির কাছে নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ দাখিল, কয়েকটি দলকে সতর্ক করা হয়েছে

বিএনপি ইসির কাছে নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ দাখিল, কয়েকটি দলকে সতর্ক করা হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনগুলো নিকটে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি ইসির কাছে একাধিক অভিযোগ উপস্থাপন করেছে। দলটি দাবি করে যে, নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি দলই প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে এবং কিছু নির্বাচন কর্মকর্তার সহযোগিতায় তা হচ্ছে।

বিএনপি অভিযোগগুলোকে সমর্থন করার জন্য বৈঠক, চিঠি এবং লিখিত নোটের মাধ্যমে ইসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের স্বাক্ষরযুক্ত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উল্লিখিত দলগুলো ২১ জানুয়ারির আগে নির্বাচনী আচরণবিধি ধারা ১৮ এবং রেজিস্টার্ড পার্টি অফিসার (আরপিও) নির্দেশনা লঙ্ঘন করে প্রচার চালিয়েছে।

চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে যে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার নিজ গ্রাম ও মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারের সফরসূচি প্রকাশ করেছিলেন, তবে ইসির অনুরোধে তিনি সফরটি স্থগিত করেন। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ দলগুলো আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, যা সমান সুযোগের নীতি ক্ষুণ্ন করছে বলে দলটি ইসির কাছে ব্যবস্থা চেয়েছে।

ইসির কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্তব্য করেন, “এ পর্যন্ত আমরা কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ পাইনি। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তা অনুসন্ধান করে যথাযথ পদক্ষেপ নেব। তবে যেসব দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে, তাদেরকে ইতিমধ্যে সতর্ক করা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রেও সংশোধনী কাজ চলছে।”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ইসির রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কিছু কর্মকর্তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন, যা স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার ক্ষতি করছে।

ইসির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে পূর্বে উল্লিখিত দলগুলোকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ইসির অফিসের সূত্রে জানা যায়, এই সতর্কবার্তা প্রাপ্তির পরেও কিছু দল এখনও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, যা ইসির তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত নজরদারির প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করেছে।

বিএনপি কর্তৃক দাখিল করা চিঠিতে উল্লেখিত দলগুলো নির্বাচনী আচরণবিধি ধারা ১৮ অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচার শুরু করার অনুমতি পায়নি। ধারা ১৮ অনুসারে, নির্বাচনী প্রচারণা শুধুমাত্র নির্ধারিত তারিখের পরই শুরু করা যাবে, অন্যথা তা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া, আরপিওর নির্দেশনা অনুসরণ না করলে সংশ্লিষ্ট দলকে শাস্তি দেওয়া হতে পারে।

ইসির বর্তমান পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে পুনরায় সতর্ক করা এবং পোস্টাল ব্যালটের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা। ইসির কর্মকর্তারা জানান যে, পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহারে যে সমস্যাগুলো উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলো সমাধানের জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যাতে ভোটারদের সুবিধা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করা যায়।

বিএনপি ও ইসির মধ্যে চলমান এই পারস্পরিক যোগাযোগ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। তবে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ এবং অভিযোগের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে ইসির উপর অতিরিক্ত চাপ আসতে পারে, যা নির্বাচনের পূর্বে আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করবে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, যদি ইসি যথাযথভাবে অভিযোগগুলো সমাধান না করে, তবে নির্বাচনী পরিবেশে অবিশ্বাসের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ভোটারদের অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ইসির দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

অবশেষে, ইসির ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রযোজ্য শাস্তি আরোপ এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারী দলগুলোকে আইনি প্রক্রিয়ায় টেনে আনা হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে, নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের শেষ পর্যায়ে সকল দলকে সমান সুযোগের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা করতে হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments