২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑২-এ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আত্মসমর্পণ করেন। তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ছিলেন এবং রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশের ভিত্তিতে এক বছরের জন্য সাজা স্থগিতের সুবিধা গ্রহণের পর আদালতে উপস্থিত হন।
১৯৯৯ সালে গৃহীত ফাঁসির রায়ে আজাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তবে সেই সময় তিনি পলাতক অবস্থায় ছিলেন। ফলে রায়ের কার্যকরী অংশ তার অনুপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়। এরপর দশকের বেশি সময় পর ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি একই ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান রায় নিশ্চিত করেন।
গত বছর ২২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুসারে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই প্রজ্ঞাপনে আজাদের মৃত্যুদণ্ড এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয় এবং তার স্থগিতাদেশের সময়কাল চলাকালীন তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য হবেন না, বরং আপিলের সুযোগ পাবেন।
আজাদ তার আইনজীবী মশিউল আলমের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন, যাতে রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সরবরাহের আদেশ পাওয়া যায়। তিনি এই নথি ব্যবহার করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করতে চান।
বিচারিক প্যানেলটি তিনজন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত: বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। প্যানেলটি আবেদনটি পর্যালোচনা করে রায়ের অনুলিপি ও আনুষঙ্গিক নথি দ্রুত সরবরাহের নির্দেশ দেয়।
ট্রাইব্যুনালের শুনানির পর আদালত মশিউল আলমের অনুরোধ মঞ্জুর করে, এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের দ্রুততম সময়ে সরবরাহের আদেশ দেয়। এই নির্দেশনা অনুযায়ী নথিপত্র প্রস্তুত করে আপিল প্রক্রিয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে।
সাক্ষাৎকারের সময় আজাদ ট্রাইব্যুনালের হিয়ারিং রুমে উপস্থিত হয়ে নিজেকে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তার উপস্থিতি আদালতের রেকর্ডে নথিভুক্ত হয় এবং তিনি এখন আইনগতভাবে দণ্ডপ্রাপ্ত নয়, বরং স্থগিতাদেশের অধীনে আপিলের অধিকারী।
সাজা স্থগিতের ফলে আজাদকে দণ্ড কার্যকর না করে আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা তাকে কারাবন্দি হিসেবে গণ্য না করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়, যা পূর্বে বাংলাদেশে কোনো উদাহরণ দেখা যায়নি।
আদালতের আদেশ অনুসারে আজাদ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করবেন। আপিলের ফলাফল নির্ভর করবে উচ্চতর আদালতের রায়ের উপর, যা রায়ের বৈধতা ও কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন করবে।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, যেখানে রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশের মাধ্যমে দণ্ডের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া এখন সম্পূর্ণভাবে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে অগ্রসর হবে, কোনো অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই।
প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোতে আদালত ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি নথিপত্রের যথাযথ হস্তান্তর নিশ্চিত করবে, এবং আপিলের শুনানি নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে, আইনি কাঠামোর মধ্যে এই ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা কীভাবে প্রয়োগ হবে তা ভবিষ্যতে নজরে থাকবে।



