বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, খলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েব-এমির ইউসুফ আশরাফ আজ দুপুরে এজি-রাগন, ঢাকার ইলেকশন কমিশন (ইসিস) সদর দফতরে ছয় সদস্যের দল নিয়ে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ ও সমতাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে নির্বাচন ন্যায়সঙ্গত হবে না।
সাক্ষাতের সময় দলটি বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও অভিযোগ ইসিসের কাছে উপস্থাপন করে। তাদের প্রধান দাবি হল, নির্বাচনী প্রচারণা ও কার্যক্রমে সব দলকে সমান অধিকার প্রদান করা, যাতে কোনো দলকে অন্যায় সুবিধা না দেয়া হয়। আশরাফ বলেন, “সমান সুযোগের পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
দলটি উল্লেখ করে, কিছু রাজনৈতিক নেতার অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্যের পরেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা সমান সুযোগের অভাবের স্পষ্ট ইঙ্গিত। উদাহরণস্বরূপ, গতকাল একটি দলীয় নেতা একটি বস্তিতে গিয়ে বাসস্থান প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে, কারণ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষিত হওয়ার পর এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া নিষিদ্ধ।
ইসিসের সঙ্গে আলোচনায় দলটি নিরাপদ ভোটকেন্দ্রের নিশ্চয়তা চেয়েছে, যাতে কোনো দলই কেন্দ্র দখল বা ফলাফল পরিবর্তনের সুযোগ না পায়। সিইসি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের সময় ৩,০০০ ড্রোন ব্যবহার করা হবে, তবে খলাফত মজলিসের প্রতিনিধি এই সংখ্যা বাড়ানোর দাবি করেন, যাতে পর্যবেক্ষণ আরও শক্তিশালী হয়।
দলটি নেট্রোকোনা-১ (কলমাকান্দা) উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউনো) ন্যায়সঙ্গত কাজের প্রশংসা করে, তবে দুই দিন আগে এক দলের প্রার্থী তার অপসারণের জন্য লবিং করায় তিনি পদত্যাগের হুমকি পেয়েছিলেন। খলাফত মজলিসের প্রতিনিধি ইউসুফ আশরাফ এই বিষয়টি তুলে ধরে, ইউনোকে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করেন।
ফরিদপুর-২ নির্বাচনী এলাকায়, বিএনপি প্রার্থী ও তার সমর্থকদের খলাফত মজলিসের কর্মীদের মৃত্যুর হুমকি দেওয়ার অভিযোগও দলটি ইসিসের কাছে তুলে ধরেছে। এই ধরনের হুমকি নির্বাচনী পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে, তাই ইসিসকে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ইসিসের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, সকল অভিযোগ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে খলাফত মজলিসের দল এখনও ড্রোনের সংখ্যা বাড়ানো এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা চায়।
এই সাক্ষাৎকারের পর, দলটি ইসিসের সঙ্গে চলমান সংলাপকে গুরুত্ব দিয়ে, নির্বাচনের আগে সকল সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করতে চায়। তারা জোর দিয়ে বলেছে, সমান সুযোগের পরিবেশ না থাকলে ভোটারদের ইচ্ছা সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে না, ফলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পরবর্তী সময়ে, ইসিসের সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নকৃত ব্যবস্থা নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে। একই সঙ্গে, খলাফত মজলিসের দাবিগুলি কতটা পূরণ হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের সামগ্রিক ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



