ফ্রান্সের ক্রীড়া মন্ত্রী মারিনা ফেরারি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত হুমকির পরেও ফরাসি দল ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে কোনো বয়কটের ইচ্ছা প্রকাশ করেনি। এই বিশ্বকাপটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো একসাথে আয়োজন করবে এবং ফ্রান্সের অংশগ্রহণ এখনও নিশ্চিত।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন, যার মধ্যে ফ্রান্সও অন্তর্ভুক্ত। এই পদক্ষেপের পেছনে তার গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্ক থেকে আলাদা করে যুক্তরাষ্ট্রের অংশে যুক্ত করার ইচ্ছা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফরাসি বামপন্থী রাজনীতিবিদ এরিক কোকেরেল ট্রাম্পের এই আচরণকে কঠোরভাবে নিন্দা করে, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকত্ব থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলেন। তিনি বলেন, যদি ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের ওপর আক্রমণাত্মক নীতি চালিয়ে যায়, তবে ফ্রান্সের দলকে সেই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে কল্পনা করা কঠিন।
কোকেরেল আরও উল্লেখ করেন, একটি এমন দেশে যেখানে প্রতিবেশী দেশকে হুমকি দেওয়া হয় এবং আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করা হয়, সেখানে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তার মন্তব্য মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়, যা ফ্রান্সের ক্রীড়া নীতি নিয়ে বিতর্ক উস্কে দেয়।
ক্লদ লে রোয়, ক্যামেরুনের ১৯৮৮ আফ্রিকা কাপ জয়ী কোচ, একই সময়ে আফ্রিকান দলগুলোকে বয়কটের কথা ভাবতে আহ্বান জানান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মহাদেশীয় নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের মহাদেশীয় আচরণ বিবেচনা করে ২০২৬ বিশ্বকাপের বয়কটের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না” বলে মন্তব্য করেন।
মারিনা ফেরারি স্পোর্টসকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার পক্ষে জোর দেন। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া ইভেন্ট, যা ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য বিশেষ মুহূর্ত, এবং কোনো রাজনৈতিক বিবাদ এতে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। যদিও তিনি ভবিষ্যতে কী হতে পারে তা পূর্বাভাস দেননি, তবু তিনি উল্লেখ করেন যে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে বয়কটের দাবি শোনা যাচ্ছে।
জার্মান সরকারও একই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। তারা পূর্বে জানিয়েছিল যে বয়কট সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তের দায়িত্ব তাদের নয় এবং অংশগ্রহণ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ফরাসি কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে। স্পোর্টস মন্ত্রী ক্রিস্টিয়ান শেন্ডারলেইন এফপি-কে একটি বিবৃতি পাঠিয়ে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব ফ্রান্সের উপর নির্ভরশীল হবে বলে জানিয়েছেন।
সারসংক্ষেপে, ফরাসি সরকার বর্তমানে কোনো বয়কটের পরিকল্পনা না করে বিশ্বকাপের অংশগ্রহণের দিকে মনোযোগী। ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত হুমকি আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয় হলেও, ফ্রান্সের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় স্পোর্টসকে রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে আলাদা রাখার নীতি বজায় রাখছে। ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তন হলে তা সরকারী ঘোষণার মাধ্যমে জানানো হবে।



