আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) জানিয়েছে যে, যদি বাংলাদেশ টি২০ বিশ্বকাপের জন্য ভারত ভ্রমণ না করে, তবে তাদের পরিবর্তে অন্য দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। টুর্নামেন্টটি শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত হবে এবং দলীয় অংশগ্রহণের শর্তে ভ্রমণ বাধ্যতামূলক।
আইসিসি কর্তৃক প্রদত্ত শেষ সময়সীমা ফেব্রুয়ারি ৭ থেকে এক দিন বাড়িয়ে আরেক দিন করা হয়েছে, যাতে বিসিবি তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এই অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে যদি বাংলাদেশ তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে, তবে পরিবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বৃহত্তর আইসিসি বোর্ডের ভোটে অধিকাংশ সদস্য দল পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। ভোটের ফলাফল অনুযায়ী, যদি বাংলাদেশ টি২০ বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারে, তবে অন্য কোনো দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই সিদ্ধান্তটি টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে স্কটল্যান্ডকে সম্ভাব্য বিকল্প দল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট সংস্থা পূর্বে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রাখে এবং আইসিসি কর্তৃক নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে। তাই, বাংলাদেশ না খেললে স্কটল্যান্ডকে পরিবর্তে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
এই বিতর্কের মূল কারণটি দুই সপ্তাহেরও বেশি আগে শুরু হয়। ৩ জানুয়ারি, বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল কলকাতা নাইট রাইডারস থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপটি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে নেওয়া হয়।
৪ জানুয়ারি, বিসিবি সরকারী পরামর্শ অনুসরণ করে আইসিসিকে জানায় যে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দলকে ভারত ভ্রমণ করতে দেবে না। এই সিদ্ধান্তটি দেশের নিরাপত্তা সংস্থার সতর্কতা এবং রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা বিবেচনা করে নেওয়া হয়।
আইসিসি এবং বিসিবির মধ্যে এই পারস্পরিক যোগাযোগ টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণের মূল বিষয়কে স্পষ্ট করে। যদি বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ভারত ভ্রমণ না করে, তবে আইসিসি দ্রুত বিকল্প দলকে নিশ্চিত করে টুর্নামেন্টের সময়সূচি বজায় রাখবে।
বিশ্বকাপের আয়োজক শ্রীলঙ্কা ও ভারত উভয়ই টুর্নামেন্টের সফলতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছে। দল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত টুর্নামেন্টের গুণগত মান ও প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে।
বিসিবি এখন শেষ দিন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি তারা অবস্থান পরিবর্তন না করে, তবে স্কটল্যান্ডের মতো প্রস্তুত দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী ম্যাচগুলো নির্ধারিত হবে।
এই পরিস্থিতি ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, তবে আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচের সময়সূচি ইতিমধ্যে নির্ধারিত, এবং দল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন দলকে দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করা হবে যাতে শিডিউল পরিবর্তন না হয়।
সারসংক্ষেপে, আইসিসি বাংলাদেশকে এক দিন বাড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সুযোগ দিয়েছে, এবং যদি বাংলাদেশ ভারত ভ্রমণ না করে, তবে স্কটল্যান্ডকে পরিবর্তে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। টি২০ বিশ্বকাপের সফলতা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হয়েছে।



