পে কমিশনের পূর্ণ সদস্যদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত শেষ সভা ২১ জানুয়ারি বিকেল ৩:৪৫ টায় সমাপ্ত হয়েছে। সভায় নবম জাতীয় পে স্কেল প্রণয়নের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের জন্য উল্লেখযোগ্য বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
সভা শেষে কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত স্কেলে ২০তম গ্রেডের বেতন ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের বেতন ১,৬০,০০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এই কাঠামো সরকারী কর্মচারী ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোকে আধুনিকায়নের উদ্দেশ্যে তৈরি।
পেনশনভোগীদের জন্যও বিভিন্ন স্তরে ভিন্ন ভিন্ন বৃদ্ধির হার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে মাসে ২০,০০০ টাকার কম পেনশন গ্রহণকারী কর্মীদের পেনশনকে ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। ২০,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকার মধ্যে পেনশনপ্রাপ্তদের জন্য ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে, আর ৪০,০০০ টাকার বেশি পেনশন গ্রহণকারীদের পেনশনকে ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
চিকিৎসা ভাতা সংক্রান্তেও পরিবর্তন আনা হবে। ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য ভাতা ১০,০০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমান ৮,০০০ টাকার তুলনায় বৃদ্ধি পাবে। ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য ভাতা ৫,০০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
কমিশনের সদস্যরা উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর এসব সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পে-কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারকে জমা দেওয়ার পর, তা পর্যালোচনা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নতুন বেতন ও পেনশন কাঠামো কার্যকর হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের আর্থিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি আশা করা হচ্ছে। তবে বাস্তবায়নের সময়সূচি ও আর্থিক ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়গুলো সরকারী অনুমোদনের পরই স্পষ্ট হবে।
পূর্বে প্রকাশিত অন্যান্য প্রতিবেদনের সঙ্গে এই সভার ফলাফল যুক্ত হয়ে পে স্কেল ও পেনশন নীতির সমন্বিত রূপ গড়ে তুলবে, যা দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



