19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজাতীয় বেতন কমিশনের নবম পে-স্কেল প্রস্তাবে বৈশাখী ভাতা ৫০ শতাংশে বৃদ্ধি

জাতীয় বেতন কমিশনের নবম পে-স্কেল প্রস্তাবে বৈশাখী ভাতা ৫০ শতাংশে বৃদ্ধি

বৈশাখী ভাতা এবং বেতন কাঠামোর ব্যাপক পরিবর্তনের প্রস্তাব জাতীয় বেতন কমিশন বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়। প্রস্তাবটি সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেল নামে পরিচিত নতুন বেতন মডেলকে ভিত্তি করে, যেখানে মূল বেতনের পাশাপাশি ভাতা ও পেনশনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি এবং উৎসবকেন্দ্রিক খরচের প্রভাবকে বিবেচনা করা হয়েছে।

বৈশাখী ভাতা বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশে প্রদান করা হয়। কমিশনের নতুন রূপরেখা অনুযায়ী এই হারকে ৫০ শতাংশে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যা কর্মচারীদের উৎসবকালে আর্থিক স্বস্তি প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনটি সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের বিশ্লেষণের ফলাফল।

বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গ্রেডভেদে ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০,০০০ টাকায় পৌঁছাবে, আর ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে দ্বিগুণের কাছাকাছি, ১,৬০,০০০ টাকায় নির্ধারিত হবে। এই সংখ্যা অনুযায়ী অধিকাংশ সরকারি কর্মচারীর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

পেনশনভোগীদের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে। মাসিক পেনশন ২০,০০০ টাকার নিচে থাকা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পেনশনকে ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে তাদের মৌলিক জীবনের মান উন্নত হয়।

যাতায়াত ভাতার পরিধি ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, পাশাপাশি নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বাড়িভাড়া ভাতার হার তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা গৃহস্থালী ব্যয়ের ভার কমাতে লক্ষ্য রাখে।

প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেল ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে আংশিকভাবে এবং ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হতে পারে। তবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেছেন, প্রতিবেদন জমার পর বিভিন্ন কমিটি এটি পর্যালোচনা করবে এবং সাধারণত তিন থেকে চার মাসের মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়।

কমিশনের মতে, ২০১৫ সালের পর থেকে প্রায় এক দশক ধরে একই বেতন কাঠামোর অধীনে প্রায় পনেরো লাখ সরকারি কর্মচারী কাজ করছেন। এই দীর্ঘ সময়ের পর নতুন কাঠামো প্রয়োগের মাধ্যমে বেতন ও ভাতার পুনর্গঠন করা হবে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং কর্মপ্রেরণায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, বেতন বৃদ্ধি ও ভাতা বাড়িয়ে সরকারি সেক্টরের কর্মশক্তির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যও এই রূপরেখায় অন্তর্ভুক্ত।

সামগ্রিকভাবে, জাতীয় বেতন কমিশনের এই প্রস্তাবটি সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments