ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বুধবারের লেনদেনের পর সূচকগুলো মিশ্র এবং সামান্য নিম্নমুখী দিক দেখেছে। মোট ১,৮১,২৫৬টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৮৯টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির ১৯ কোটি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪৮টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের মূল্য ৬০৫ কোটি ৬০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৩২ টাকায় পৌঁছেছে, যা বাজারের সতর্ক মনোভাবের প্রতিফলন।
এই লেনদেনে শেয়ারের দামের পরিবর্তন দেখা গেছে: ১৩৬টি শেয়ারের দাম বাড়েছে, ১৯২টি শেয়ারের দাম কমেছে এবং বাকি ৬১টি শেয়ার অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। দামের ওঠানামা মূলত বিনিয়োগকারীদের লাভ তুলে নেওয়ার এবং ঝুঁকি কমানোর ইচ্ছা থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
‘এ’ ক্যাটাগরির ৬৩টি শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে ১১৩টি শেয়ারের দাম হ্রাস পেয়েছে এবং ৩১টি শেয়ার অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। এই ক্যাটাগরিতে অধিকাংশ শেয়ার নিচের দিকে গিয়ে বাজারের সামগ্রিক নিম্নমুখী প্রবণতাকে শক্তিশালী করেছে।
‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৩২টি শেয়ারের দাম বাড়েছে, ৩৬টি শেয়ারের দাম কমেছে এবং ১০টি শেয়ার অপরিবর্তিত রয়েছে। এখানে দাম বাড়া ও কমা শেয়ারগুলোর অনুপাত তুলনামূলকভাবে সমান, যা মিশ্র চিত্র তৈরি করেছে।
‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ৪১টি শেয়ারের দাম বাড়েছে, ৪৩টি শেয়ারের দাম কমেছে এবং ২০টি শেয়ার অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। এই ক্যাটাগরির দামের পরিবর্তনও সামগ্রিক বাজারের মিশ্র প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে।
মিউচ্যুয়াল ফান্ড সেক্টরে ৩৪টি ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ২টি ইউনিটের দাম বাড়েছে, ১৯টি ইউনিটের দাম কমেছে এবং ১৩টি ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। ফান্ডের দামের নিম্নমুখী গতি বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা বাড়িয়ে তুলেছে।
কর্পোরেট বন্ডে দুইটি ইস্যু লেনদেন হলেও কোনো মূল্য পরিবর্তন ঘটেনি, যা বন্ড বাজারে স্থিতিশীলতা নির্দেশ করে। সরকারি সিকিউরিটিজে দুইটি ইস্যু লেনদেন হয়েছে; একটির দাম বাড়েছে এবং অন্যটির দাম কমেছে, ফলে সরকারি সিকিউরিটিজের দামের দিকেও মিশ্রতা দেখা যায়।
বাজারের অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন যে বিনিয়োগকারীরা বর্তমান সময়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন এবং লাভের সুযোগে শেয়ার বিক্রি করছেন, যা সূচকের নিচের দিকে গমনকে ত্বরান্বিত করেছে। এই মনোভাবের ফলে লেনদেনের পরিমাণ উচ্চ হলেও দামের গড়ে হ্রাস দেখা গেছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে যদি সতর্কতা এবং লাভ তোলার প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে শেয়ারবাজারে নিম্নমুখী চাপ কিছু সময়ের জন্য টিকে থাকতে পারে। তবে, লেনদেনের পরিমাণের স্থিতিশীলতা নির্দেশ করে যে বাজারে তরলতা বজায় রয়েছে, যা স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বুধবারের ডিএসই লেনদেনে শেয়ার ও ফান্ডের দামের মিশ্র পরিবর্তন, উচ্চ লেনদেনের পরিমাণ এবং বিনিয়োগকারীর সতর্ক মনোভাব বাজারের সামগ্রিক দিককে নিচের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ভবিষ্যতে বাজারের দিকনির্দেশনা নির্ভর করবে বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা এবং মুনাফা তোলার গতি উপর।



