হাজতখানা জেলখানায় দুইজন আওয়ামী লীগ নেতা অপরাধমূলকভাবে ভূরিভোজের আয়োজন করে, এ বিষয়ে আদালতে শোনা যায়। ঘটনার পর জেলা পুলিশ পাঁচজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বদলি করে এবং তিনজনের কমিটি গঠন করে তদন্তের দায়িত্ব দেয়।
বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে সহকারী শহর উপপরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলাম ও কবির আহম্মদ ভূঁইয়া, পাশাপাশি কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন, মো. হাসান এবং সাইফুল ইসলাম অন্তর্ভুক্ত। তাদেরকে জেলার বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়িতে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিয়াকত আকবর এবং পরিদর্শক মো. শাহ আলম। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসামিরা হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এ জে এম পাশা চৌধুরী এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছাইফ উদ্দিন আহমদ। উভয়ই আদালতে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে আদালতে দায়িত্বশীল পুলিশের সহযোগিতায় এই ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়। জেলখানার নিরাপদ পরিবেশে এমন খাবার পরিবেশন করা আইনগতভাবে অনুমোদিত নয়, তাই তদন্তের প্রয়োজনীয়তা ত্বরান্বিত হয়েছে।
কমিটির কাজ আজ (বুধবার) শুরু হয়েছে এবং তদন্তের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। তদন্তে প্রমাণের ভিত্তিতে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হতে পারে, যা জেলা শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন।
হাজতখানা জেলখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি প্রকাশের পাশাপাশি, আদালতে উপস্থিত জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুর রহমানের মন্তব্যও শোনা যায়। তিনি বলেন, কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই আসামিদের খাবার খাওয়ানো গুরুতর অন্যায় এবং আদালতের পুলিশ পরিদর্শকও দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাবে না।
পুলিশ পরিদর্শককে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে এবং তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে দায়িত্ব স্বীকারের সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্ত কমিটি এই বিষয়টি বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে।
এই ঘটনার পর, জেলা পুলিশ প্রশাসন অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে, জেলখানার ভিতরে ভবিষ্যতে কোনো অননুমোদিত সমাবেশ বা খাবার সরবরাহ রোধের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে।
বদলি করা কর্মকর্তাদের নতুন দায়িত্বের তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে তারা বিভিন্ন পোস্টে পুনঃনিয়োগের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাবে। স্থানীয় জনগণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
অধিক তদন্তের ফলাফল জানার জন্য, কমিটি সাত কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনায় জড়িত দুজন নেতা এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও দায়িত্ব সম্পর্কে আদালত ও পুলিশ উভয়ই সতর্ক দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করবে।



