সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী রোজা মাসে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে পুরো মাস বন্ধ রাখতে রিট আবেদন দাখিল করেছেন। আবেদনটি উচ্চ আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় মঙ্গলবার দাখিল করা হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জিতে রমজান মাসের প্রথম আঠারো দিন বিদ্যালয়গুলোকে খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারী এই নির্দেশকে অবৈধ ঘোষণার জন্য রুল জারির আদেশ চেয়েছেন এবং রমজানের প্রথম দিন থেকে পুরো সময় বিদ্যালয় বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন।
আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মণ্ডল জানান, মাদ্রাসাগুলোতে পুরো রমজান মাসে ছুটি দেওয়া হয়, তবে সরকারী ও বেসরকারি স্কুলগুলোকে প্রথম আঠারো দিন খোলা রাখতে বলা হয়েছে, যা তিনি বৈষম্যমূলক বলে বিবেচনা করেন। তিনি আরও বলেন, রোজা রাখার সময় ছোট ও কিশোর শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলে যাতায়াত ও ক্লাসে অংশগ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে রোজা রক্ষার অভ্যাসে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
রোজা মাসে বিদ্যালয় চালু রাখলে শহরের ট্রাফিক জ্যাম বাড়ে, যা নগর বাসিন্দাদের জন্য অতিরিক্ত কষ্টের কারণ হয়। মণ্ডল এই বিষয়টি তুলে ধরে উল্লেখ করেন যে, রোজা রাখার সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং তাদের ধর্মীয় চর্চা বজায় রাখা উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ।
আবেদনটি সরকারকে রুল জারির মাধ্যমে রমজান মাসের পুরো সময় বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিতে অনুরোধ করে। যদি আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করে, তবে রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সমান ও ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ নিশ্চিত হবে এবং রোজা রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
এই রিট আবেদনটি পূর্বে রোজা মাসে স্কুল বন্ধের বিষয়ে বিভিন্ন নোটিশ ও প্রতিবাদে যুক্ত হয়েছে। পূর্বের কেসগুলোতে সরকারকে রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, তবে এখন পুরো মাসের বন্ধের দাবি নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
শিক্ষা খাতে রমজান মাসে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তা নিয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, রমজান মাসে বিদ্যালয় বন্ধ রাখলে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় চর্চা সহজ হয় এবং ট্রাফিক জ্যাম কমে, তবে অন্যদিকে কিছু শিক্ষাবিদ যুক্তি দেন যে, শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কিছু দিন খোলা রাখা প্রয়োজন।
আপনার এলাকার স্কুলে রমজান মাসে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা জানার জন্য শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া, রমজান মাসে শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে অনলাইন লার্নিং বা বিকল্প শিক্ষার পদ্ধতি বিবেচনা করা যেতে পারে।
**ব্যবহারিক টিপস:** রমজান মাসে যদি আপনার সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে হয়, তবে সকালবেলা হালকা নাস্তা এবং সন্ধ্যায় ইফতারের পর যথাযথ বিশ্রাম নিশ্চিত করুন। ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে রুট পরিকল্পনা করুন এবং সম্ভব হলে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের পরিবর্তে সাইকেল বা পায়ে হাঁটা বিবেচনা করুন। রোজা রক্ষার সময় পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



