ঢাকার উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ১১‑বছরীয় শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম, বিমান দুর্ঘটনায় দহনজনিত আঘাতের পর ১৮৩ দিন চিকিৎসা শেষে আজ হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেছেন। তিনি দীর্ঘ ছয় মাসের কঠিন পুনরুদ্ধার শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন।
গত বছর ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুলে ঘটিত বিমান দুর্ঘটনায় তার দেহের প্রায় ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়। দহনজনিত আঘাতের তীব্রতা উচ্চ ছিল, ফলে অবিলম্বে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
প্রাথমিক অবস্থায় রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাসে অসুবিধা এবং তীব্র ব্যথা দেখা দেয়, যা তীব্র যত্নের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দেয়। ইনস্টিটিউটের তীব্র দহন ইউনিটে রোগীকে তৎক্ষণাৎ ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসা দল রোগীর দহনজনিত ক্ষত দ্রুত স্থিতিশীল করতে রেডিয়েশন থেরাপি, তরল পুনরায় সঞ্চালন এবং অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি প্রয়োগ করে। পাশাপাশি, ত্বকের ক্ষত পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
১৮৩ দিনের মধ্যে মোট ৩৫ বার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ বার স্কিন ড্রাফ্ট এবং ২৩ বার ফ্যাসিওটমি অন্তর্ভুক্ত। এই অপারেশনগুলো দহনজনিত ত্বকের টান কমিয়ে শারীরিক কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।
অপারেশন পরবর্তী পর্যায়ে রোগীকে পাঁচ দিন আইসিইউতে এবং ছয় দিন এইচডিইউতে রাখা হয়। বাকি ১৭২ দিন তিনি ইনস্টিটিউটের কেবিনে পর্যবেক্ষণ ও পুনর্বাসনের অধীনে ছিলেন।
স্কিন ড্রাফ্টের মাধ্যমে ক্ষতবিহীন ত্বক রোগীর দেহে সংযোজন করা হয়, যা দহনজনিত দাগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফ্যাসিওটমি প্রক্রিয়া পেশীর টান কমিয়ে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে, ফলে দ্রুত সেরে ওঠা সম্ভব হয়।
চিকিৎসা দলের মধ্যে অধ্যাপক ডা. মো. মারুফুল ইসলাম, ইনস্টিটিউটের বর্তমান পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন এবং আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান প্রধান ভূম



