22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইউ.এস. সামরিক হুমকির জন্য প্রস্তুতি আহ্বান

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইউ.এস. সামরিক হুমকির জন্য প্রস্তুতি আহ্বান

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স‑ফ্রেডরিক নেলসন নুকুতে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের মুখে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা ও সামরিক হুমকি বিবেচনা করে, সরকারকে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে।

নেলসন বলেন, সামরিক আগ্রাসনের সম্ভাবনা বর্তমান পরিস্থিতিতে কম হলেও তা সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া যায় না। তাই সরকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করবে, যা দ্বীপের দৈনন্দিন জীবনে কোনো ব্যাঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

টাস্ক ফোর্সের দায়িত্বের মধ্যে থাকবে জরুরি সাপ্লাই চেইন নিশ্চিত করা, যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা এবং প্রয়োজনীয় রেসকিউ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান। নেলসন আরও নির্দেশ দেন, সব পরিবারকে অন্তত পাঁচ দিনের খাবার মজুদ রাখতে হবে, যাতে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় থাকে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বারবার গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করে আসছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশলকে চীন ও রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রক্ষা করার জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে যুক্তি দেন। ট্রাম্পের সামাজিক মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি গ্রাফিকেও দেখা যায়, যেখানে ২০২৬ সালের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে বলে উল্লেখ আছে।

ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এখনও গ্রিনল্যান্ডে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তবে কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সামরিক বিকল্প সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা চলছে।

সেইসাথে, যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ আমেরিকান এয়ারস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (NORAD) গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত থুলে এয়ার বেসে সামরিক বিমান মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এই বেসটি ডেনমার্কের অধীনে থাকা গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত উপস্থিতি, এবং সাম্প্রতিক সময়ে এর কার্যক্রম বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ডেনমার্কের সরকার এখনও থুলে বেসে অতিরিক্ত বিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পষ্টতা দেয়নি, তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের ওপর বাড়তি আগ্রহের সূচক হিসেবে বিশ্লেষণ করছেন। নেলসন এই পরিস্থিতিতে দেশের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সমর্থন খোঁজার কথা উল্লেখ করেন।

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতি এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনার সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছে। নেলসন সরকার টাস্ক ফোর্সের মাধ্যমে জরুরি প্রস্তুতি বাড়িয়ে, জনগণকে আত্মবিশ্বাসী রাখতে এবং সম্ভাব্য কোনো সামরিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে চায়। এই উদ্যোগের ফলাফল কী হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments