আইসিসি (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল) আজ একটি ভার্চুয়াল সভা পরিচালনা করেছে, যেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রতিনিধিত্ব করছেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম। সভায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসীন নাকভি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) সচিব দেবজিত সাইকিয়া এবং অন্যান্য বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আইসিসি পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাহী, হেড অফ ইভেন্টস ও লিগ্যাল অফিসার উপস্থিত ছিলেন।
পিসিবি সভায় বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে একটি চিঠি উপস্থাপন করেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে ভারতীয় মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলা হলে পাকিস্তানও তার অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করতে পারে। পিসিবি এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় না গিয়ে, মৌখিকভাবে এই অবস্থান আইসিসি-কে জানিয়েছে।
বিসিবি ও আইসিসি পূর্বে বহুবার আলোচনা করেছে, তবে ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। আইসিসি পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না গিয়ে, ম্যাচের স্থান পরিবর্তন করতে অস্বীকার করেছে। এই অবস্থান দুই সংস্থার মধ্যে ধারাবাহিক বৈঠকের পরেও অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।
বিসিবি বারবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রকাশ্যেই উল্লেখ করেছেন যে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) চাপের মুখে আইসিসি কোনো অন্যায্য সিদ্ধান্ত নিলে বাংলাদেশ তা মেনে নেবে না। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে প্রত্যাহার করেনি; বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে।
আসিফ নজরুল অতীতের অনুরূপ উদাহরণ উল্লেখ করে বলছেন, দেশের মর্যাদা রক্ষার জন্য এ ধরনের দাবি স্বাভাবিক। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, বাংলাদেশ তার অংশগ্রহণ বজায় রাখবে, তবে নিরাপত্তা ও ন্যায্যতার প্রশ্নে আইসিসি থেকে সমর্থন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই বিতর্কের মূল সূত্রের একটি অংশ হল মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া। ভারতীয় রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিবাদে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বাংলাদেশি পেসারকে দল থেকে বাদ দিতে নির্দেশ দেয়। এই ঘটনা পিসিবি-কে এই বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত করে, ফলে পাকিস্তানও বাংলাদেশি দলের নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
আইসিসি সভায় উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা নিজেদের অবস্থান পুনরায় তুলে ধরেছেন। বিসিবি নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ভেন্যু পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেছে, আর আইসিসি পূর্বের সিদ্ধান্তের অখণ্ডতা রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পিসিবি এই আলোচনায় বাংলাদেশকে সমর্থন করে, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
সামগ্রিকভাবে, আইসিসি এখনও ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো সমঝোতা করতে পারছে না, যদিও বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয়ই নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত না হলে অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করতে পারে। ভবিষ্যতে আইসিসি কীভাবে এই দাবিগুলো মোকাবেলা করবে, তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি ও অংশগ্রহণকারীদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে।
পরবর্তী সপ্তাহে আইসিসি আবার একটি ভার্চুয়াল সেশন নির্ধারণ করেছে, যেখানে উভয় পক্ষের শেষ মতামত শোনা হবে। সেই আলোচনার ফলাফল অনুসারে, বিশ্বকাপের ম্যাচের স্থান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হবে।



