বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী আজ ঢাকা-১৫ (আগারগাঁও) নির্বাচনী এলাকার জন্য নির্বাচন কমিশনের অফিসার থেকে “দারিপল্লা” চিহ্ন পেয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট দলপতি পক্ষে পক্ষপাতের অভিযোগ জানায়। পার্টির সহকারী সচিব জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগ প্রধান আহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই মন্তব্যের পেছনে পার্টির ন্যায্য, শান্তিপূর্ণ ও হুমকি-মুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করার ইচ্ছা রয়েছে।
জুবায়ে উল্লেখ করেন, জামায়াত নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলেছে এবং সকল প্রার্থীর সমান সুযোগের জন্য নির্বাচন কমিশনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পার্টি সর্বদা স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে ক্যাম্পেইন চালাবে।
এদিকে, জুবায়ে অভিযোগ তুলে বলেন যে বিরোধী দলের কর্মীরা জামায়াতের সদস্য, বিশেষ করে নারী কর্মীদের ওপর আক্রমণ ও হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের হিংসা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে থামাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
জুবায়ে নির্বাচন কমিশনকে সমতাপূর্ণ মাঠ নিশ্চিত করার জন্য সকল প্রকার হিংসা ও উত্তেজনা দমন করতে বলছেন। তিনি বিশেষ করে জামায়াতের কর্মীদের লক্ষ্য করে করা হিংসা-হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
গতকাল বিভিন্ন প্রার্থীর প্রত্যাহার ঘটার পর আজ নির্বাচন কমিশন ৩০০টি সংসদীয় এলাকায় নির্বাচনী চিহ্ন বরাদ্দ করেছে; ঢাকা-১৫-এ ফিরে আসা অফিসার জামায়াতের শফিকুর রহমান আমীরকে “দারিপল্লা” চিহ্ন প্রদান করেন। জুবায়ে স্পষ্ট করে বলেন, পার্টি এই চিহ্ন গ্রহণ করেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পূর্ণ অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে উদ্ভূত একটি রেফারেন্ডামও শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে, যার মাধ্যমে আইনগত বৈধতা নিশ্চিত করতে “হ্যাঁ” ভোটের মাধ্যমে সমর্থন চাওয়া হবে। জুবায়ে রেফারেন্ডামের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে।
দেশীয় ও বিদেশী ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জুবায়ে উল্লেখ করেন, সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে নিরাপদ, মানবিক ও সুন্দর দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি ভোটারদেরকে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করেন।
জুবায়ে জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতের লক্ষ্য হল সন্ত্রাসমুক্ত ও হুমকি-মুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা, কারণ ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের পূর্ববর্তী নির্বাচনে ভোটাররা যথাযথভাবে অংশ নিতে পারেননি। তিনি অতীতের নির্বাচনী ত্রুটিগুলোকে উল্লেখ করে বর্তমান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
নারী কর্মীদের অগ্রিম ক্যাম্পেইনে ব্যবহার করা হচ্ছে এমন অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় জুবায়ে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে খণ্ডন করেন। তিনি বলেন, জামায়াত সর্বদা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলেছে এবং কোনো অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত নয়।
জুবায়ে উল্লেখ করেন, ১১ই ডিসেম্বর থেকে পার্টি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করেছে। তিনি এই দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে এবং সকল প্রার্থী ও দলকে সমান সুযোগ দিতে নির্বাচন কমিশনের সহায়তা কামনা করেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, জামায়াতের এই মন্তব্যগুলো রাজনৈতিক পরিবেশে তীব্রতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে পার্টি স্পষ্টভাবে বলেছে, তারা শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছা প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে চায়।
নির্বাচন কমিশন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করে আগামী নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নির্ধারিত হবে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি।



